• মেঘালয়ের কয়লাখনিতে উদ্ধার আরও ৭ মৃতদেহ, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ২
    এই সময় | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড়ের কয়লাখনিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হলো ২৫। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা নাগাদ পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড়ের তাশখাই এলাকার একটি কয়লা খনিতে বিস্ফোরণ ঘটে। সেই বিস্ফোরণে বৃহস্পতিবার ১৮ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছিল, শুক্রবার পুলিশ আরও ৭টি দেহ উদ্ধার করেছে। পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল আই নোনরাং জানিয়েছেন, ১২ জনের দেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

    DGP আরও জানিয়েছেন, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, বিশেষ উদ্ধারকারী দল এবং পুলিশ একসঙ্গে এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে চিকিৎসকদের বিশেষ দল এবং অ্যাম্বুল্যান্স। জেলা প্রশাসন এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী গোটা ঘটনার উপরে নজর রাখছে। মোতায়েন করা হয়েছে সেনাকেও।

    পূর্ব জয়ন্তিয়ার পুলিশ সুপার বিকাশ কুমার জানিয়েছেন, শুক্রবার কয়লাখনিতে তল্লাশি চালিয়ে চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। বাকি তিন জনকে হাসপাতালে গুরুত্বর আহত অবস্থায় ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসা চলাকালীনই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে। যত দ্রুত সম্ভব আহত এবং মৃতদের শনাক্ত করার কাজ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও, কয়লাখনির মধ্যে আরও কেউ চাপা পড়ে রয়েছেন কি না তাও দেখা হচ্ছে। ১২টি মৃতদেহ শনাক্ত করার পরে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

    পরিবেশের ক্ষতি এবং জীবনের ঝুঁকির কারণে ২০১৪ সালে মেঘালয়ে র‍্যাট-হোল কয়লা খনির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে কয়লা ট্রান্সপোর্টও সীমিত করা হয়। র‍্যাট-হোল খনির ক্ষেত্রে সাধারণত ৩-৪ ফুট উঁচু সরু অনুভূমিক সুড়ঙ্গ খনন করা হয়, যার ফলে শ্রমিকদের কয়লা উত্তোলনের জন্য ভিতরে হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকে কাজ করতে হয়। পুলিশের দাবি,বৈধ কাগজপত্র এবং সুরক্ষাবিধি ছাড়াই মেঘালয়ের কয়লাখনিতে কাজ হচ্ছিল। এই অভিযোগে শুক্রবার পুলিশ ফোরমে চিরম্যাং (৩৬) এবং শামেমি ওয়ার (৪২) নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

    এর আগেও মেঘালয়ে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ সালে একটি কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৮ সালেও একইরকম বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের।  ২০১৪ সালে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুন্যালের নিষেধাজ্ঞা জারির পরেও গত বছর থেকে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কয়লা উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছিলে মেঘালয় সরকার। তারপরেই এই দুর্ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

  • Link to this news (এই সময়)