• হাফ সিটে কেন ফুল ভাড়া! RAC-তে প্রশ্ন
    এই সময় | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: অন্য যাত্রীদের মতোই সমান ভাড়া দিয়ে দূরপাল্লার ট্রেনের টিকিট কেটেছিলেন। কনফার্মড টিকিট পাননি। চার্ট তৈরি হওয়ার পরে দেখা গেল, ওয়েটিং লিস্টে থাকা টিকিট কনফার্মড না হয়ে 'আরএসি' হয়েছে, অর্থাৎ রিজ়ার্ভেশন এগেনস্ট ক্যানসেলেশন। গোটা আসনটা আপনার নয়, এক সহযাত্রীর সঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে। যদি তিনি নিজের টিকিট ক্যানসেল করেন, একমাত্র তখনই আসনটি আপনার হবে। না হলে দু'জনে মিলে সিট ভাগ করে যেতে হবে। যদিও কনফার্মড টিকিটের সমান ভাড়াই দিতে হয়েছে।

    এই ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়ে বিষয়টি রেলের নজরে এনেছে সংসদের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি। কমিটির সদস্যদের মত, আরএসি টিকিটের ক্ষেত্রে যাত্রীদের কনফার্মড বার্থ ছাড়াই ভ্রমণ করতে হয়। তাই তাঁদের থেকে পুরো ভাড়া আদায় করা আদৌ যুক্তিযুক্ত নয়। বুধবার সংসদে পেশ করা রিপোর্টে কমিটি জানিয়েছে, চার্ট তৈরির পরেও যে সব যাত্রী আরএসি ক্যাটিগরিতে থেকে যান, পুরো বার্থ পান না—তাঁদের থেকে সম্পূর্ণ ভাড়া নেওয়া উচিত নয়।

    কমিটির সুপারিশ, রেল মন্ত্রকের এমন কোনও ব্যবস্থা চালু করা উচিত যাতে এই ধরনের যাত্রীদের ভাড়ার একটি অংশ ফেরত দেওয়া যায়। কমিটির যুক্তি, ওই যাত্রীরা কনফার্মড সিটের ভাড়া পুরোটা দেওয়ার পরেও কনফার্মড বার্থ পান না। বাধ্য হয়ে আরএসি–তে ভ্রমণ করেন। তা হলে তাঁরা কনফার্মড টিকিট পাওয়া যাত্রীদের সমান ভাড়া দেবেন কেন? আরএসি টিকিটের ক্ষেত্রে দুই যাত্রী টিকিটের পুরো ভাড়াই দেন, কিন্তু রেল একদিকে তাঁদের কনফার্মড টিকিট দেয় না আবার সিটটি অন্য এক যাত্রীকেও দেয়। অর্থাৎ একই সিট দু'বার বিক্রি করে পরিষেবা দেওয়া হয় অর্ধেক। কমিটি তাই এই ধরনের যাত্রীদের জন্যে আংশিক রিফান্ড বা ভাড়ার কিছুটা অংশ ফেরতের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেছে রেলকে।

    প্রতিদিন সব ক'টি রেলওয়ে জ়োন মিলিয়ে দেশে চার হাজারের বেশি মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন যাতায়াত করে। এই বিপুল–সংখ্যক ট্রেনে কত যাত্রী 'আরএসি' টিকিটে যাতায়াত করেন, তার নির্দিষ্ট কোনও হিসেব দিতে পারেনি রেল। তবে জানা গিয়েছে, এসি টু–টিয়ারের প্রতি কামরায় অন্তত তিনটি সাইড লোয়ার বার্থে ছ'জন যাত্রী, এসি থ্রি–টিয়ারে প্রতি কামরায় অন্তত চারটি বার্থে আট জন যাত্রী এবং প্রতিটি স্লিপার কোচে অন্তত সাতটি বার্থে ১৪ জন যাত্রী আরএসি টিকিটে যাতায়াত করতে পারেন। উৎসবের সময়ে এবং অন্য ব্যস্ততার সময়ে অবশ্য এই সংখ্যার হেরফের হয়।

    ভারতীয় রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি ২২ কামরার মেল বা এক্সপ্রেস ট্রেনে দু'টি এসি টু–টিয়ার, পাঁচটি এসি থ্র্রি–টিয়ার এবং ১২টি স্লিপার কামরা থাকে। এই হিসেবে প্রতিটি দূরপাল্লার ট্রেনে গড়ে ২২০ জন যাত্রী আরএসি টিকিটে যাতায়াত করেন। এ থেকেই বোঝা যায়, আরএসি টিকিট থেকে ভারতীয় রেল কী বিপুল পরিমাণে রোজগার করে।

    পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি ভারতীয় রেলের কাছে আরএসি টিকিটের ক্ষেত্রে আংশিক ভাড়া ফেরতের যে প্রস্তাব দিয়েছে, শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব মান্যতা পেলে সাধারণ যাত্রীরা নিশ্চিতই উপকৃত হবেন। কিন্তু 'সোনার ডিম পাড়া হাঁস'–কে কি এত সহজে ছাড়বে রেল!

  • Link to this news (এই সময়)