এই সময়: গত রবিবারের কেন্দ্রীয় বাজেটকে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘টোটালটাই মিথ্যা কথার ফুলঝুরি। হাম্পটি–ডাম্পটি বাজেট।’ শুক্রবার বিধানসভায় রাজ্য বাজেট সংক্রান্ত আলোচনায় ফিরে এলো সেই ‘হাম্পটি–ডাম্পটি’ বিতর্ক। এবং তা নিয়ে শাসক–বিরোধী তরজার পারদ চড়ল।
এ দিন বিধানসভায় বাজেট নিয়ে আলোচনায় বালুরঘাটের বিজেপি বিধায়ক তথা অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ী টেনে আনেন ‘হাম্পটি–ডাম্পটি’ প্রসঙ্গ। রাজ্য সরকারকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্ভবত নিজের বাজেটকেই হাম্পটি–ডাম্পটি বলতে চেয়েছিলেন।’ জবাবি ভাষণে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘অশোকবাবু অর্থনীতিবিদ হতে পারেন, কিন্তু উনি বাংলার বাজেটকে হাম্পটি–ডাম্পটি বলে আসলে চিমটি কাটতে চেয়েছেন। ওঁর জানা উচিত, বাংলার অর্থনীতি হাম্পটি–ডাম্পটি নয় যে, দেওয়াল থেকে পড়ে যাবে।’
তাঁর অভিযোগ, অশোক লাহিড়ী বাংলা মিডিয়ামে পড়ে এখন ইংরেজিতে অর্থনীতি আওড়াচ্ছেন, কিন্তু রাজ্যের বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবন করতে ব্যর্থ। চন্দ্রিমা শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করে অশোককে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন বলে অভিযোগ তুলে বিজেপি বিধায়করা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিধানসভা কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। বাইরে বেরিয়ে স্লোগান তোলেন, ‘অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ীর অপমান মানছি না, মানব না।’
বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের অশোক বলেন, ‘এই ধরনের আলোচনা খুবই নিকৃষ্ট। ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে বাজেট নিয়ে আলোচনা করলে ভালো হতো। আমি ইংরেজি জানি কি জানি না, এ সব নিয়ে কথা তো অপ্রাসঙ্গিক এবং খুবই অপ্রীতিকর।’ তাঁর সংযোজন, ‘আইনসভায় অনেকেই তো কত রঙ্গ করেন। ব্যঙ্গ করায় কোনও আপত্তি নেই। লোকে হাসুক। আপনি একটা ব্যঙ্গ করলে আমিও একটা করব। কিন্তু এখানে ব্যঙ্গ হয় না। গালাগাল দেওয়া হয়।’
রাজ্যের শাসকদলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘তৃণমূল এমন একটা দল যে ওরা কোনও অর্থবহ আলোচনা চায় না। বাজেটের আলোচনা মানে তো কত টাকা খরচ হবে, সেই টাকা কোথা থেকে আসবে— এ সব নিয়ে চর্চা করা। তৃণমূল তা নিয়ে কোনও আলোচনা হোক চায় না।’ বিধানসভা অধিবেশনের পরে সাংবাদিকদের চন্দ্রিমা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বাজেটকে কেন মুখ্যমন্ত্রী হাম্পটি–ডাম্পটি বলেছেন, সেটাই বিধানসভায় বলছিলাম। তাতে বিজেপি বিধায়কদের কী সমস্যা হলো, সেটা বুঝতে পারলাম না। ওরা ওয়াকআউট করে বেরিয়ে গেল। আমরা নাকি কিছুই করি না। তা হলে বারবার ক্ষমতায় আসি কেন? আমরা বলি না, এটা তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার। আমরা বলি মা–মাটি–মানুষের সরকার।’
রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এ দিনের বিতর্ক প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, ‘অশোক লাহিড়ী শিক্ষিত মানুষ, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু বিধানসভায় এসে তিনি সেই পরিচয় দেন না। তিনি কত বড় অর্থনীতিবিদ, সেটা না বুঝিয়ে তিনি টিপ্পনি কাটতে কতটা পারদর্শী সেটা দেখানোর চেষ্টা করেন। এটা ওঁকে মানায় না।’