নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অশোকনগরের কাঁকপুলে ভূগর্ভে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান ও মজুত পরিমাণ নিশ্চিত করল পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। খুব শীঘ্রই তা উত্তোলনের কাজও যে শুরু হবে, সেটাও জানিয়ে দিয়েছে মন্ত্রক। মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী, কাঁকপুলে মাটির নীচে ৩৩৩ লক্ষ ঘন মিটার প্রাকৃতিক গ্যাস সঞ্চিত রয়েছে। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ওএনজিসি যে রিপোর্ট মন্ত্রককে পাঠিয়েছে, তার ভিত্তিতেই পেট্রলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সংসদে কাঁকপুল নিয়ে এ ঘোষণা করেছেন। রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের প্রশ্নের উত্তরে কাঁকপুল নিয়ে খুশির এখবর শুনিয়েছিলেন মন্ত্রী। বাণিজ্যিকভাবে এই প্রাকৃতিক গ্যাসের উত্তোলন শুরু হলে, অশোকনগর তথা বাংলা তো বটেই, গোটা পূর্ব ভারতের আর্থিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তন নিশ্চিত বলেই মনে করছে ওয়াকিবহলমহল। সংসদে কাঁকপুল নিয়ে খুশির খবর পরিবেশন করা হলেও, ‘গ্রাউন্ড জিরো’ কিন্তু অন্য কথা বলছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় খণ্ডহরের চেহারা নিয়েছে গোটা এলাকা। জং ধরা মেশিন এখন তালাবন্ধ। মানুষ সমান আগাছায় ঢেকেছে গোটা এলাকা।
জানা গিয়েছে, প্রথম ২০১৮ সালে অশোকনগরের বাইগাছি এলাকায় প্রথম সন্ধান মেলে খনিজ তেলের। পরবর্তীতে কাঁকপুল, সেনডাঙা, দেগঙ্গা, বনগাঁ সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় খননকার্য চালিয়ে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধানে খোঁজ পায় ওএনজিসি।অশোকনগরের বেশ কয়েকটি কূপ খনন করে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস তুলে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ওএনজিসি পরীক্ষা করে কাঁকপুল,ভুরকুণ্ডা সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বিপুল পরিমাণ খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পায়। তবে কয়েকটি জায়গায় ভূগর্ভে সঞ্চয়ের পরিমাণ আশানুরূপ না হওয়ায়, উত্তোলন প্রক্রিয়া লাভজনক হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছিল ওএনজিসি। তবে কাঁকপুলের প্রাকৃতিক গ্যাসের সঞ্চয় ভাণ্ডার নিয়ে উচ্ছ্বসিত পেট্রলিয়াম মন্ত্রক।
ওএনজিসি’র দেওয়া তথ্যের উল্লেখ করে লিখিত জবাবে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, গ্যাস উত্তোলন নিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করতে হবে। উৎপাদন বণ্টন চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলনের জন্য আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে এফডিপি জমা দিতে হবে ইচ্ছুক সংস্থাকে। জানা গিয়েছে, কাঁকপুলে ২০২২ সাল থেকে টানা দু’বছর ২৭৩০ মিটার পর্যন্ত কুয়ো খোঁড়া হয়েছিল। সেখান থেকে কিছু পাওয়া যায়নি। সেই থেকে বন্ধ কাজ। নতুন করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ঘোষণায় আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা।