• ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটারদের স্বস্তি
    আজকাল | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের জন্য বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এবার ভোটারদের আর অনলাইনে ভোটার স্লিপ ডাউনলোড করতে হবে না, কিংবা রাজনৈতিক দলের কর্মীদের দ্বারস্থ হতে হবে না। নির্বাচন কমিশন অব ইন্ডিয়ার নতুন নির্দেশে প্রতিটি যোগ্য ভোটারের বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ।

    এই নির্দেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকার বুথ লেভেল অফিসাররাই (BLO) সরাসরি ভোটারদের দরজায় গিয়ে স্লিপ বিতরণ করবেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের সুপারিশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের উদ্দেশ্য, ভোটপ্রক্রিয়াকে আরও সহজ করা এবং ভোটারদের তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা কমানো।

    নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, নিয়ম অনুযায়ী বাড়িতে বাড়িতে ভোটার স্লিপ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নতুন নয়। কিন্তু বাস্তবে ২০১১ সালের পর থেকে রাজ্যে এই প্রথা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বহু ভোটারকে হয় অনলাইনের উপর নির্ভর করতে হয়েছে, নয়তো স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের সাহায্য নিতে হয়েছে। কমিশনের মতে, এই নির্ভরতা ভোট ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাই এবার পুরনো নিয়মকে আবার কড়াভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এক শীর্ষ নির্বাচন আধিকারিকের কথায়, এই প্রক্রিয়া ফের চালু হলে সাধারণ ভোটারদের হয়রানি কমবে এবং ভোট সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছনোর ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা বাড়বে। কমিশন স্পষ্ট করেছে, কোনও ভোটার যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজের ভোটার স্লিপ না পান, তাহলে তিনি সরাসরি নিজের এলাকার বুথ লেভেল অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। এর ফলে কোনও যোগ্য ভোটার যেন তথ্যের অভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা হবে।

    এদিকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নির্বাচনী কর্মীদের বকেয়া পারিশ্রমিক নিয়েও রাজ্য সরকারের উপর চাপ বাড়াচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই বিষয়ে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে আবারও স্মারক পাঠানো হয়েছে। এতে বুথ লেভেল অফিসার, তাঁদের সুপারভাইজার, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার এবং সহকারী ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের বকেয়া অবিলম্বে মেটানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    উল্লেখযোগ্যভাবে, এই নিয়ে তৃতীয়বার রাজ্য সরকারকে চিঠি পাঠাল নির্বাচন কমিশন। এর আগে গত বছরের আগস্ট এবং ডিসেম্বরেও একই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। কমিশনের এক আধিকারিকের মতে, নির্বাচনী কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের প্রাপ্য সময়মতো না মেটালে গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর তার প্রভাব পড়ে।

    ভোটার স্লিপের বাড়িতে বিতরণ এবং নির্বাচনী কর্মীদের বকেয়া সংক্রান্ত কড়া অবস্থান, এই দুই সিদ্ধান্ত মিলিয়ে কমিশন স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে তারা আরও নিয়ন্ত্রিত, স্বচ্ছ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশে আয়োজন করতে চায়। রাজ্যের ভোটারদের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলও এখন নজর রাখছে, এই নির্দেশ বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে রূপায়িত হয় তার দিকে।
  • Link to this news (আজকাল)