• মাইক্রোসফটের ‘ছদ্মবেশী’-দের ঠাঁই এবার শ্রীঘরে
    আজকাল | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোর তখন সবে সকালের চৌকাঠে। ঘড়ির কাঁটা চারটে ছুঁইছুঁই। যখন শহর ঘুমিয়ে, মহেশতলার এক অভিজাত আবাসনের একটি ফ্ল্যাটে তখন চলছিল ‘অপারেশন আমেরিকা’! 

    কী অপারেশন? খাস কলকাতার কাছেই রমরমিয়ে চলছিল মার্কিন নাগরিকদের পকেট কাটার এক আন্তর্জাতিক কারবার। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে লালবাজারের সাইবার থানার গোয়েন্দারা হানা দিলেন সেই ডেরায়। আর তাতেই পর্দা ফাঁস এক হাই-টেক জালিয়াতি চক্রের।

    আমাদের জালে ধরা পড়েছে ৮ জন ‘টেক-উইজার্ড’। জুনায়েদ, সাকির, খুরশিদদের মতো তরুণরা মিলে খুলে বসেছিল এক বেআইনি কল সেন্টার। এদের মোডাস  অপারেন্ডি বা কাজের ধরন শুনলে চক্ষু চড়কগাছ হতে বাধ্য। এরা নিজেদের পরিচয় দিত ‘মাইক্রোসফট’-এর টেকনিক্যাল সাপোর্ট টিম হিসেবে। টার্গেট? সুদূর আমেরিকার সাধারণ মানুষ।

    গুগল বা সোশ্যাল মিডিয়ায় মাইক্রোসফটের ভুয়ো হেল্পলাইন নম্বর ছড়িয়ে রাখত এই চক্রটি। বিপদে পড়ে কোনো মার্কিন নাগরিক সেই নম্বরে ফোন করলেই শুরু হত আসল খেলা। ‘টেকনিক্যাল সাপোর্ট’ দেওয়ার নাম করে তারা আমজনতাকে দিয়ে ডাউনলোড করাত ‘TeamViewer’ বা ‘AnyDesk’-এর মতো রিমোট অ্যাক্সেস অ্যাপ। ব্যাস, কেল্লাফতে! একবার কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ হাতে পেলেই ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকা বা ওয়েলস ফার্গোর মতো নামী ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব করে দেওয়া ছিল স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

    অভিযুক্তদের ডেরা থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫টি ল্যাপটপ, ১২টি মোবাইল ফোন, ২টি হাই-স্পিড ওয়াই-ফাই রাউটার, বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল নথি এবং তথ্য।

    নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে রাখতে এরা ব্যবহার করত উন্নত মানের VPN। এমনকী ভিক্টিমদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য মাইক্রোসফটের জাল লেটারহেড এবং ইলেকট্রনিক ডকুমেন্ট তৈরিতেও এরা ছিল সিদ্ধহস্ত। চুরি করা টাকা পাচার হত বিদেশের অ্যাকাউন্টে বা অ্যাপল গিফট কার্ডের মাধ্যমে।

    গত ১ নভেম্বরের একটি পুরনো মামলার সূত্র ধরে তদন্ত চালাচ্ছিলেন আমাদের গোয়েন্দারা। আগের ধৃতদের জেরা করে এবং ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট মিলিয়েই হদিস মেলে মহেশতলার এই গোপন আস্তানার। ধৃত ৮ জনই এখন পুলিশি হেফাজতে।
  • Link to this news (আজকাল)