• 'রাত ১১টায় হোটেলে আয়, নইলে তোর অবস্থা আরজি কর করে দেব...', খাস কলকাতায় তরুণীর মারাত্মক অভিযোগে বিদ্ধ শাসকনেতা...
    ২৪ ঘন্টা | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • বিক্রম দাস: আধার কার্ড তৈরির নাম করে তরুণীকে উত্যক্ত করার অভিযোগ, অশ্লীল কুপ্রস্তাব। হেনস্তা ও আরজি কর করে দেওয়ার নাম করে রেপ থ্রেট করা হয় বলে অভিযোগ। ৯৭ নম্বর ওয়ার্ড কুদঘাট এলাকার ঘটনা। মায়ের আধার কার্ড না থাকায় তৃণমূলের কাছে গেছিলেন এক তরুণী। এরপর তাঁকে সাদেক ইসলাম এর নাম বলে দল। বলেন, সাদেক  আমাদের পার্টির লোক। ইনি সাহায্য করবেন। অভিযোগ, বেসরকারি সংস্থার কর্মী এক মহিলার আধার কার্ড তৈরির নাম করে বেশ কয়েক মাস ধরে উত্য়ক্ত করেন ওই ব্য়ক্তি। মহিলার অভিযোগ, জানুয়ারি মাসে রিজেন্ট পার্ক থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও এখনও অধরা অভিযুক্তরা। এই ঘটনায় আতঙ্কিত ওই মহিলা। তাঁর দাবি, তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যদিও সাদেক ইসলাম অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    ওই মহিলা, সাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মহিলাকে কু প্রস্তাব দেওয়া হয়। না মানলে বলা হয় আরজি কর করে দেব। ধর্ষনের ভয় দেখানো হয়। রাত ১১ টায় কখনও ডাকা হয় বা কখনও হোটেল এ যেতে বলা হয় বলে অভিযোগ। শাঁখা সিঁদুর পড় বাড়িতে এসেও শাসানি দেয়। এমনকি বিয়েও করতে চায় তাঁকে।

    যুবতীর আরও অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি তৃণমূলকর্মী হওয়ায় প্রথমে পুলিস অভিযোগ নিতে চায়নি। পরে আইনজীবীর মারফৎ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। তবে একমাস পেরিয়ে গেলেও এখনও অধরা সাদেক ইসলাম। যুবতীর অভিযোগ, তাঁকে এবং তাঁর মা-কে রীতিমতো ভয় দেখানো হচ্ছে। বাড়ির সামনে এসে হুমকি, হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ। পুলিস অবিলম্বে ব্যবস্থা নিক, চাইছেন যুবতী। অভিযোগকারিণীর আরও অভিযোগ, যুবতী কোনও প্রকার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁর বাড়ির সামনে শাঁখা-সিঁদুর নিয়ে হাজির হয়েছিলেন সাদেক, বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। হোয়াটসঅ্যাপে যুবতীকে অশালীন ছবি পাঠানো হয়েছিল, কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাদেক ইসলাম। মা এবং মেয়ে থাকেন বাড়িতে। এই গোটা ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তাঁরা। পুলিস ব্যবস্থা নিক, এটাই চাইছেন আপাতত। 

     

    রিজেন্ট পার্ক থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে প্রথমে অভিযোগ নিতে চায়নি। পরে অভিযোগ নিয়েছে, তবে কোনও স্টেপ নেয়নি পুলিস, এমনই অভিযোগ সামনে আসছে। থানা থেকে বলে ও পার্টির লোক, তৃণমূলের লোক, কমপ্লেন তুলে নিন। থানায় কমপ্লেন করার পর অত্যাচার আরও বাড়ে। বাড়ি এসে ধর্ষণ করে দেবে, আরেকটা আরজি কর ঘটে যাবে বলে বারবার ভয় দেখায়। অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দিক থেকে চাপ আসে। ওই তরুণী মায়ের সঙ্গে থাকে, বাড়িতে আর কেউ নেই। তাই অত্যন্ত আতঙ্কিত তিনি। অগাস্ট মাস থেকে একটানা উত্যক্ত করছে। এখনও প্রতিনিয়ত ভয় দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ।

     

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)