মৌমিতা চক্রবর্তী: ফরওয়ার্ড ব্লককে এবার তীব্র ভাষায় সমালোচনা করলেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও সিপিআইএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। মতান্তর হতেই পারে কিন্তু তা প্রকাশ্যে আনা ঐক্যবিরোধী। ভিন্ন মত থাকতেই পারে কিন্তু তা জনসমক্ষে বললে অনৈতিক এবং ঐক্যবিরোধী।
একান্ত সাক্ষাত্কারে তিনি জানিয়েছেন, 'বামফ্রন্টের মূল চালিকা শক্তি সিপিআইএম। সব বামদলই তা মনে করে। আমরা সার্বিক আলোচনা করি। চেয়ারম্যান বিমান বসু অত্যন্ত ধৈর্য্য নিয়েই সবসময় তা করেন। নরেনবাবু বোধহয় হতাশগ্রস্থ হয়ে বলেছেন। এতে ফরওয়ার্ড ব্লকের ভাবমূর্তি কি বাড়ল? না সিপিআইএমের ভাবমূর্তি কমল? নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে না পারলে, যারা অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারে-- তাদের দাদাগিরি করছে বলে মনে হয়। এমন ব্যবহার বাঞ্ছনীয় নয়'।
উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, জ্যোতি বসু সকলের মত মেনে অতীতে প্রধানমন্ত্রী হননি। সেটা দেখেও তো আমরা শিখতে পারি। যেটা বাঞ্ছনীয় নয় সেটা করা উচিত নয়। আইএসএফের একজন পির ফ্যামিলির ছেলে রাজনীতির ময়দানে এসে জোরাল ভাবে, ধারাবাহিক ভাবে, ধর্ম নিরপেক্ষ ভাবে, কাজ করছেন। তিনি মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানের কথা বলে। সে কখনও ধর্মের প্রচার করে না। নির্দিষ্ট ধর্মনিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে। ভাঙ্গরে মহিলারা রক্তদান করছে। নৌশাদের নেতৃত্বে ভাঙ্গরের এই উন্নতি লক্ষ্যনীয়। কোনও দল নির্দিষ্ট ভাবে তাদের ভোটার চিহ্নিত করতে পারে না। শরীকী দলের মতান্তর হতেই পারে, কিন্তু তা বাইরে আনা ঠিক নয় বলেই আমি মনে করি'।
ভোটের আগে বামফ্রন্টের অন্দরের এই ফাটল নিয়ে তিনি বলেন, 'এতদিন ধরে যে ঐক্য গড়ে উঠেছে, তা ভেঙে ঐক্যবিরোধী কোনও কাজ করা উচিত্ নয়। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব যাঁরা দেন, তাদের ধৈর্য্যশীল হতে হয়, উদার হতে হয়। ধারাবাহিকভাবে আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে গিয়েও যাঁরা, তাঁদের অস্তিত্ব মাঠে ময়দানে প্রমান করতে পারছেন না, হতাশ হয়ে পরছেন। সেলিম যদি হুমায়ূনের সঙ্গে কথা বলেও তাতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ধরে নেওয়া হবে কেন? বিরোধী দল হলেও বন্ধুত্বপূর্ণ আবহাওয়া থাকা খুব জরুরি। মানুষের মধ্যে দক্ষিণপন্থী মনোভাব রাখা উচিত্ নয়। বিরোধী দলে কেউ থাকলে তাদের সঙ্গে কথা বলা যাবে না? এই চিন্তাধারা সঠিক নয়। আমার তো সেদিন কুণালের সঙ্গে কোর্টে দেখা হল, কথা বললাম। এতে অসুবিধা কোথায়'?
মোদ্দা কথা, মাঠে-ঘাটে কাজ করা, বামফ্রন্টে নিবেদিত প্রাণ যে মানুষগুলো, তাঁরা হতাশ হয়, এমন কোনও কাজ করাই উচিত্ নয় কোনও শরীক দলের বলেই মনে করেন আইনজীবী ও প্রাক্তন মেয়র বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।