চলতি বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই দেশ থেকে মাওবাদীদের পুরোপুরি নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তার আগেই একে একে আত্মসমর্পণ করছেন মাওবাদীরা। শুক্রবার ছত্তিসগড়ের সীমানা লাগোয়া মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলিতে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে সাত জন মাওবাদীর। তার এক দিন পরেই ছত্তিসগড়ের বস্তার অঞ্চলে আত্মসমর্পণ করলেন ৫১ মাওবাদী। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে ২৪ জন মহিলা। তাঁদের মাথার দাম ছিল ১ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বস্তার রেঞ্জের আইজি পি সুন্দররাজ জানিয়েছেন, শনিবার সুকমা জেলায় আত্মসমর্পণ করেছেন ১৪ জন মহিলা-সহ মোট ২১ জন মাওবাদী। অন্য দিকে বিজাপুরে আত্মসমর্পণ করেছেন ৩০ জন মাওবাদী। তাঁদের মধ্যে ২০ জন মহিলা। আত্মসমর্পণ করার সময়ে একে-৪৭, ইনসাস এবং এসএলআর-সহ অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রও পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন তাঁরা।
মাওবাদীদের সমাজের মূল স্রোতে ফেরানোর জন্য পুনা মারগম নামের একটি প্রকল্প চালু করেছে। ওই পুনর্বাসন প্রকল্পেই আত্মসমর্পণ করেছেন ওই মাওবাদীরা। শনিবার যাঁরা আত্মসমর্পণ করেছেন তাঁদের মাথার দাম ছিল ১ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা বলেও জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা।
সুকমার পুলিশ সুপার কিরণ চহ্বান জানিয়েছেন, ওই এলাকায় মাওবাদী-বিরোধী অভিযান চালানোর জন্য একাধিক ক্যাম্প করা হয়েছে। সেই সঙ্গে উন্নয়নমূলক কাজও চলছে। এর জেরে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়েছে মাওবাদীরা।
উল্লেখ্য, আগের দিনেই মাওবাদী বিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেয়েছে নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী। ছত্তিসগড়ের নারায়ণপুর এবং গড়চিরোলির সীমানায় থাকা ফড়েওয়াড়া এলাকায় ওই অভিযানে মৃত্যু হয়েছে সাত জন মাওবাদীর। মৃতদের মধ্যে আছেন অন্যতম শীর্ষ মাওবাদী নেতা প্রভাকর। সেই সঙ্গে উদ্ধার হয়েছে ৩টি একে-৪৭ রাইফেল একটি এসএলআর এবং .৩০৩ রাইফেল।
অন্য দিকে, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের থেকে তথ্য নিয়ে ছত্তিসগড়-ওডিশার সীমানায় তল্লাশি অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। ছত্তিসগড়ের গাড়িয়াবান্দের মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকার ৬টি জায়গায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র এবং বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। ওই অভিযানে দু'টি ইনসাস রাইফেল, দেশি পিস্তল, ১২ বোরের বন্দুক, সিঙ্গল শট বন্দুক, ১২৭টি কার্তুজ, বেশ কয়েকটি ম্যাগাজ়িন-সহ প্রচুর বিস্ফোরক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে গাড়িয়াবান্দ থানার পুলিশ।
বৃহস্পতিবারই ওডিশায় আত্মসমর্পণ করেন ১৯ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মাওবাদীদের ওডিশা রাজ্য কমিটির নেতা নিখিল ওরফে নিরঞ্জন রাউত এবং তাঁর স্ত্রী অঙ্কিতা ওরফে রশ্মিতা লেঙ্কা। তাঁদের মাথার দাম ছিল ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা।