সুদীপ কুমার ঘোষ: এসআইআর আতঙ্কে মায়ের মৃত্যু হয়েছে। সেই অনাথ শিশুর দায়িত্ব নিলেন ব্লক সভাপতি। উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায় বাসুদেবপুর গ্রামের গৃহবধূ সেরিনা বিবির মৃত্যু হয়েছে এসআইআর-এর আতঙ্কে। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর আতঙ্কের কারণেই তাঁর মৃত্যু। এই শোকের মুহূর্তে, স্থানীয় প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির মানবিক উদ্যোগ আশার আলো দেখিয়েছে।
দেগঙ্গা ব্লক ১-এর সভাপতি আনিসুর রহমান এই ঘটনার পর এগিয়ে এসেছেন। দায়িত্ব নিয়েছেন মা-হারা এই সাত বছরের শিশুটির। তিনি ঘোষণা করেছেন সেরিনা বিবির পুত্রসন্তানের ভবিষ্যতের পড়াশোনা ও যাবতীয় খরচের সম্পূর্ণ দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছেন। যা প্রশংসা কুড়িয়েছে সকলের। এর পাশাপাশি তিনি কঠোরভাবে এসআইআর প্রক্রিয়ার সমালোচনাও করেছেন।
প্রসঙ্গত, এসআইআর আতঙ্কে বাংলায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসআইআর আতঙ্কে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে আগরপাড়ায়। প্রদীপ করের মৃত্যুতে প্রতিবেশীরা দাবি করেছিলেন, তাঁর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। তবুও তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। তাই নিজেকে শেষ করে দেন।
বীরভূমের ইলামবাজারে ক্ষিতীশ মজুমদার (৯৫) এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলেও তাঁর পরিবারের অভিযোগ ছিল। পানিহাটির প্রদীপ করের পর প্রাণ হারান পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানার কোরা পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ক্ষিতীশ। বেশ কয়েক মাস আগে বীরভূমে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে ইলামবাজারের স্কুলবাগান সুভাষপল্লীতে স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আতঙ্কই তাঁকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
এরপর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড়ের জয়পুর এলাকার যুবক সফিকুল গাজি (৩৫) এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি। তাঁরা স্ত্রী জানান, গত কয়েক দিন ধরে আতঙ্কে ছিলেন স্বামী। বারবার বলছিলেন, তাঁর কোনও পরিচয়পত্র নেই। ভাই-বাপ কেউ নেই। স্ত্রী বারবার অভয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও গত বুধবার সকালে তিনি নিজেকে শেষ করে দেন।
এই আবহে বহরমপুর থানার অন্তর্গত গান্ধী কলোনী এলাকায় গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন এক ব্যবসায়ী। সেক্ষেত্রেও পরিবাররে দাবি ছিল, আত্মহত্যার কারণ এসআইআর আতঙ্ক। ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় ‘দেশ ছাড়তে হবে’ এই আতঙ্কে গত ৪ নভেম্বর কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হন মুর্শিদাবাদের কান্দির মোহন শেখ (৫৫)।