জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাজ্য বাজেটে বেকার যুবকদের জন্য বড় ঘোষণা— ‘বাংলার যুব-সাথী’। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে পরিকল্পিত এই প্রকল্পে মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সামনে বিধানসভা ভোটের আবহে এই ঘোষণা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। তবে আগে জেনে নেওয়া যাক, প্রকল্পে কারা আবেদন করতে পারবেন এবং কী ভাবে।
কী এই ‘বাংলার যুব-সাথী’?
রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে বেকার যুবক-যুবতীদের মাসিক ভাতা দেওয়া হবে। উদ্দেশ্য—চাকরির প্রস্তুতির সময়ে ন্যূনতম আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। মাসে ১,৫০০ টাকা, অর্থাৎ বছরে ১৮,০০০ টাকা পর্যন্ত সহায়তা মিলতে পারে।
কারা পাবেন?
প্রাথমিক ঘোষণা অনুযায়ী সম্ভাব্য যোগ্যতার মানদণ্ড—
বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে
ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ
বর্তমানে বেকার
পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা
চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশিত হলে শর্তাবলি আরও স্পষ্ট হবে।
কতদিন মিলবে ভাতা?
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত বা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত এই ভাতা দেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি এখনও প্রকাশিত হয়নি।
কবে থেকে চালু?
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী অর্থবর্ষে, সম্ভাব্যভাবে ১৫ অগাস্ট ২০২৬ থেকে প্রকল্পটি চালু হতে পারে। বাজেট ঘোষণার পর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
কী ভাবে আবেদন করবেন?
আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে হওয়ার সম্ভাবনা। সম্ভাব্য ধাপগুলি—
১. নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন
২. ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ
৩. প্রয়োজনীয় নথি আপলোড
৪. যাচাই শেষে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা (ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার)
কী কী নথি লাগতে পারে?
চূড়ান্ত তালিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি। তবে সম্ভাব্য নথির মধ্যে থাকতে পারে—
১.মাধ্যমিক পাশের সার্টিফিকেট বা মার্কশিট
২. বয়সের প্রমাণপত্র
৩. আধার বা ভোটার কার্ড
৪. ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ
৫. মোবাইল নম্বর
বাজেট ও ভোটের প্রেক্ষাপট
এই ঘোষণা এসেছে রাজ্য বাজেটে। সামনে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে— এটি কি শুধুই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, না কি ভোটের আগে যুব সমাজকে বার্তা?
নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্ক ও আদালতের মামলার আবহে বেকারত্ব ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায়। সেই পরিস্থিতিতে ‘বাংলার যুব-সাথী’কে অনেকেই দেখছেন মমতা সরকারের বড় সামাজিক পদক্ষেপ হিসেবে।
সরকারের দাবি, কর্মসংস্থানের চেষ্টা চলবে নিজের গতিতে, আর তার সঙ্গে সমান্তরালভাবে বেকার যুবকদের হাতে সাময়িক আর্থিক সহায়তা তুলে দিতেই এই উদ্যোগ।
সব মিলিয়ে, ‘বাংলার যুব-সাথী’ এখন ঘোষণার পর্যায়ে। চূড়ান্ত নিয়মাবলি প্রকাশিত হলে আবেদন প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার বিস্তারিত আরও স্পষ্ট হবে। তবে বাজেটের মঞ্চ থেকে এই ঘোষণা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক দুই ক্ষেত্রেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।