অর্কদীপ্ত মুখোপাধ্যায়: ১৪ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু সেই তারিখ কি পিছিয়ে যেতে পারে বলেই কমিশন জানিয়েছে। এখনও এরাজ্যের প্রায় ৭০ লক্ষ ভোটারের শুনানি বাকি রয়েছে। এদিকে, SIR সময়ে না হলে কী হবে তা নিয়ে বিস্তর কৌতূহল মানুষের।
২৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল SIR-এর শুনানি পর্ব। শেষ হওয়ার কথা ৭ ফেব্রুয়ারি। ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু প্রশ্ন হল, তা কি হবে? নির্দিষ্ট সময়ে কি আদৌ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা যাবে?
কমিশন সূত্রে খবর, 'এখনও প্রচুর লোক বাকি আছে হিয়ারিংয়ের। ৭০-৭৫ লক্ষ। মাত্র ৪ দিন সময় আছে। জজসাহেবরা বলেছে সেরকম হলে আমরা টাইম বাড়াব। আমরা ভাবছি। এই মামলা সোমবার দিন আবার হিয়ারিং হবে। তারপর যা ফাইনাল অর্ডার দেওয়ার তা ফাইনাল অর্ডার দেওয়া হবে।'
বুধবার সুপ্রিম কোর্টে SIR-মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী সওয়ালে বলেন, সময় নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। কিছু বাফার রাখুন। ১ কোটির বেশি মানুষের শুনানি অলরেডি হয়ে গেছে। যদি কারও শুনানি না হয়ে থাকে তাহলে বিচারব্যবস্থা রয়েছে। আমরা রয়েছি। তখন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, আমরা সময় বাড়িয়েছি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শুনানির পর ১ কোটি ৬ লক্ষ ভোটারের তথ্য ইতিমধ্যেই আপলোড হয়ে গেছে। তবে ২-৩টি জেলায় এখনও শেষ হয়নি হিয়ারিংয়ের কাজ। যেমন মালদা,উত্তর কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগণাতে এখনও SIR শুনানি বাকি আছে। ফাইনাল দিনক্ষণ জানা না গেলেও ৭ তারিখের জায়গায় ৯ বা ১০ তারিখ হিয়ারিং শেষ করার জন্য দিন চাইতে পারে কমিশন। কমিশন থেকে এখনও কোনও অফিসিয়াল নির্দেশ আসেনি। সূত্রের খবর, তিন জেলার নির্বাচনী আধিকারিকদের থেকে সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন চিঠি পেয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে সেই বিষয়ে অবগত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলার সিইও বা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। নয়াদিল্লিতে এই মর্মে চিঠি পাঠাতে চলেছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল। তবে এই তিন জেলা বাদ দিয়ে বাংলার অন্য কোনও জেলার জন্য বাড়তি সময়সীমা বরাদ্দ করার জন্য সেই চিঠিতে আবেদন করবে না সিইও দফতর।
এ বিষয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, 'SIR এর শুনানির শেষ দিনে চূড়ান্ত হয়রানি। সময় শেষ, শুনানির কাজ শেষ হল না। শাসক দলের পরিকল্পিত ঝামেলাতেই হয়রানি, বিজেপির অভিযোগ। চূড়ান্ত তালিকায় ৬৩ লক্ষের নাম বাদ যেতে পারে, কমিশন সূত্র। সোমবার শুনানির পর এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কোনও নির্দেশ দেয় কিনা সেটাই এখন দেখার'।