• বিমান–শোভনদেবের মতানৈক্যে ছন্দপতন বিধানসভার শেষ দিনে
    এই সময় | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোমালিন্যের জেরে সপ্তদশ বিধানসভার শেষ অধিবেশনের শেষ দিনে তাল কাটল। প্রবল ক্ষুব্ধ শোভনদেবের অসন্তোষ দূর করতে রেওয়াজ ভেঙে অধ্যক্ষ নিজে পরিষদীয় মন্ত্রীর কক্ষে গেলেন। তারপরেও অধিবেশনের শেষ পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের সময়ে সভায় থাকলেন না শোভনদেব। পরিষদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী কোনও বিধানসভার শেষ অধিবেশনের শেষ দিনে অধ্যক্ষ, মুখ্যমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা, মুখ্য সচেতক–সহ সমস্ত বিধায়ককে নিয়ে গ্রুপ ছবি তোলা হয়। এ বার শেষ দিনে সেই গ্রুপ ছবি ওঠার সম্ভাবনা যে নেই, তার ইঙ্গিত আগেই পাওয়া গিয়েছিল। বিধানসভায় শনিবার অধিবেশনের শেষ দিনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন না, ছিলেন না বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। শাসক–বিরোধী সবাইকে একফ্রেমে রেখে গ্রুপ ছবি ওঠেনি। বিধানসভার লনে একফ্রেমে শাসক–বিরোধী দু’পক্ষে আসা তো দূরের কথা, বিমান–শোভনদেবের মতানৈক্যের জেরে সপ্তদশ বিধানসভার শেষ মুহূর্তে ছন্দপতন হলো।

    বিধানসভায় শনিবার অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন বিলের উপরে বিতর্কে বক্তা তালিকায় নাম না থাকলেও সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষকে অনুরোধ করেন পরিষদীয় মন্ত্রী। শোভনদেব নিজের কক্ষে অধিবেশনের বিরতিতে বলেন, ‘বক্তা তালিকায় নাম থাকা বিরোধী দলের একজন আসেননি, ১০ মিনিটের গ্যাপ তৈরি হয়েছিল। তখন আমি (অধ্যক্ষকে) বলি, আমাকে ৪–৫ মিনিট বলতে দিন। উনি বলতেও দিলেন, দু’–তিনটি বাক্য বলার পরেই আলো জ্বালিয়ে দিলেন! এটা আমার কাছে খুব অসম্মানজনক, প্রবীণ বিধায়ক হিসেবে অস্বস্তি হচ্ছিল।’ আলো জ্বলে ওঠার পরে শোভনদেবের মাইক বন্ধ হয়ে যায়। এই সময়ে অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো মন্ত্রীরা শোভনদেবকে বলতে দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষর কাছে আর্জি জানান। তখন অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমাকে চাপ দিতে পারেন না। ওঁর নাম বক্তা তালিকায় ছিল না। একজন অনুপস্থিত থাকায় উনি সেই সময়ে বলতে চেয়েছিলেন।’ যদিও শোভনদেবের বক্তব্য, বক্তা তাঁর তালিকায় নাম না থাকলেও তিনি যে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দিতে চান, তা লিখিত ভাবে অধ্যক্ষকে জানান। সেই আর্জি অধ্যক্ষ মেনেও নিয়েছিলেন। শোভনদেবের বক্তব্য, ‘আমি পরিষদীয় মন্ত্রী। উনি যে কথাগুলো বলছিলেন, আমার ভালো লাগেনি। উনি একটু ধৈর্য ধরে কাজ করতে পারতেন। আমার ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, এই ভাবে কথা বলবেন কেন? উনি যেমন স্পিকার, আমিও তো পরিষদীয় ম‍ন্ত্রী। উনি সেই সম্মান তো দেবেন।’

    সভার মধ্যে এই মতান্তরের পরে অধ্যক্ষ নিজেই পরিষদীয় মন্ত্রীর কক্ষে গিয়ে তিনি শোভনদেবের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন। শোভনদেব পরে বলেন, ‘উনি আমার কক্ষে এসেছিলেন। উনি দুঃখিত। আমি কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে যেতাম না, উনি আসায় গেলাম।’ বিধানসভায় যে কোনও অধিবেশনের শেষ দিনের অন্তিম পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়। শোভনদেব এ দিন ধন্যবাদ জ্ঞাপনের সময়ে সভায় ছিলেন না। নির্দিষ্ট ভাবে পরিষদীয় মন্ত্রীর প্রসঙ্গ উল্লেখ না করলেও ধন্যবাদ জ্ঞাপনের সময়ে অধ্যক্ষ বলেন, ‘সুষ্ঠু ভাবে সভা পরিচালনা করার জন্য আমাকে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে কেউ অসন্তুষ্ট হতে পারেন। কিন্তু কাউকে আঘাত দেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়। আপনারা আমাকে ধন্যবাদ দিতেও পারেন, না দিতেও পারেন।’

  • Link to this news (এই সময়)