কর্ণাটকে বিতর্কিত শ্রম কোড চালু করার প্রস্তুতি কংগ্রেস সরকারের, খাড়্গেকে চিঠি
বর্তমান | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কেন্দ্রের চার ‘বিতর্কিত’ শ্রম কোডের প্রতিবাদে শামিল হয়েছে কংগ্রেস সহ বিভিন্ন বিজেপি বিরোধী দল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধানত এই ইস্যুতে সারা দেশে সাধারণ ধর্মঘট ডেকেছে সর্বভারতীয় ১০টি শ্রমিক সংগঠন। তার মধ্যে অন্যতম হল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিইউসি। এই পরিস্থিতিতে দলীয় ‘লাইনে’র সম্পূর্ণ উলটো পথে হাঁটতে শুরু করেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন কর্ণাটক সরকার। ‘বিতর্কিত’ শ্রম কোড আইন এবার রাজ্যে চালুর প্রস্তুতি শুরু করেছে সিদ্ধারামাইয়া সরকার। এব্যাপারে খসড়া নীতিও প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে কর্ণাটকের শ্রম দপ্তরের পক্ষ থেকে। কংগ্রেস সরকারের এহেন পদক্ষেপে তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়েছে। এব্যাপারে কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে চিঠি পাঠিয়েছেন ধর্মঘটী শ্রমিক নেতৃত্ব। কংগ্রেস সভাপতিকে অবিলম্বে এব্যাপারে হস্তক্ষেপের আর্জি জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, কর্ণাটক সরকারের এহেন পদক্ষেপ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। অথচ একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যই এখনও পর্যন্ত এবিষয়ে কোনোরকম পদক্ষেপ করেনি। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক অবিজেপি রাজ্যের আপত্তি হেলায় উড়িয়ে দিয়ে গত ২১ নভেম্বর দেশব্যাপী চার শ্রম কোড কার্যকর করেছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। কিন্তু শ্রমিক স্বার্থ যেহেতু রাজ্যগুলির সঙ্গেও সম্পর্কিত, তাই এব্যাপারে প্রত্যেক রাজ্য সরকারকে আলাদাভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে। নাহলে কেন্দ্রীয়ভাবে লাগু হলেও রাজ্যে রাজ্যে তা কার্যকর হবে না।
কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকার ঠিক এই কাজই করেছে। আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারির আগে রাজ্যের শ্রম দপ্তর এসংক্রান্ত খসড়া নীতি প্রকাশ করেছে। পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে সাধারণ মানুষকে এবিষয়ে মতামত জানাতেও বলা হয়েছে। শ্রম কোডের যাবতীয় বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে চারটি পৃথক কমিটিও গঠন করেছে কর্ণাটক সরকার। এর ফলে রাজ্যের কংগ্রেস সরকারের উপর বেজায় ক্ষুব্ধ ধর্মঘটী সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠনগুলি। খাড়্গেকে লেখা চিঠিতে সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটুর সাধারণ সম্পাদক ই করিম স্পষ্টই লিখেছেন, যারা ধর্মঘট ডেকেছে, তাদের মধ্যে কংগ্রেসের শ্রমিক শাখা আইএনটিইউসিও আছে। অথচ তাসত্ত্বেও কর্ণাটক সরকার এহেন পদক্ষেপ করেছে। এমনকী কংগ্রেস পার্টি যেখানে শ্রম কোডের বিরোধিতায় সরব হয়েছে, সেখানে কর্ণাটক সরকারের এমন পদক্ষেপ দুর্ভাগ্যজনক। এব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা হলে বিরোধী জোট রাজনীতিই প্রশ্নের মুখে পড়ে যেতে পারে।