দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ঘণ্টায় ৪১ কিলোমিটার থেকে ঘণ্টায় ৩৭.৯ কিলোমিটার। কেন্দ্রের প্রথম মোদি জমানার পাঁচ বছরে লক্ষ্যণীয়ভাবে কমে গিয়েছে শহর ও শহরতলির লোকাল ট্রেনের গড় গতি। ওই সময়ে ক্রমশ আরও ঢিমেতালে চলেছে কলকাতা, মুম্বইয়ের মতো একাধিক শহরের কার্যত লাইফলাইন হিসাবে পরিচিত লোকাল ট্রেন। সংসদে এমনই রিপোর্ট দিয়েছে সংসদীয় পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি)। তারা সুপারিশ করেছে যে, লোকাল ট্রেন বা ইএমইউ থেকে পরিবর্তন করে আরও বেশি মেমু/ডেমু ট্রেন চালানো হোক। একইসঙ্গে রেলমন্ত্রককে ‘মিশন রফতার’ কর্মসূচির উপরও আরও বেশি জোর দেওয়ার কথা বলেছে ওই সংসদীয় কমিটি। রিপোর্টে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি বলেছে, দূরপাল্লার মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনের তুলনায় মেমু/ডেমুর মতো প্যাসেঞ্জার ট্রেনে প্রতি ৫০ কিলোমিটারে অন্তত ১৫ মিনিট সময় বাঁচানো সম্ভব।
সংসদীয় পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৫-১৬ আর্থিক বছরে সারা দেশে ইএমইউ কিংবা শহর ও শহরতলির লোকাল ট্রেনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ৪১ কিলোমিটার। কিন্তু ওইসময় ট্রেনের গতি বৃদ্ধি সংক্রান্ত ‘মিশন রফতার’ কর্মসূচি চালু হয়নি। তা কার্যকরের পরেও যে এবিষয়ে বিশেষ অগ্রগতি হয়নি, তারই ইঙ্গিত করা হয়েছে পিএসির রিপোর্টে। সংসদীয় কমিটি জানিয়েছে, ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে দেশব্যাপী ইএমইউ ট্রেনের গড় গতি কমে দাঁড়িয়েছে ঘণ্টায় ৩৭.৯ কিলোমিটারে। এপ্রসঙ্গেই ইএমইউ থেকে পরিবর্তিত করে তুলনায় উচ্চ গতির মেমু/ডেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেন আরও বেশি চালানোর পক্ষেই সওয়াল করেছে পিএসি। কারণ তারা মনে করছে, এতে মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনের তুলনায় প্রতি ৫০ কিলোমিটারে অন্তত ১৬ থেকে ১৭ মিনিট অতিরিক্ত সময় বাঁচাতে পারবেন সাধারণ রেলযাত্রীরা। সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষ থেকে ২০২১-২২ আর্থিক বছর পর্যন্ত সময়সীমায় সারা দেশে মোট ৪১৪টি প্যাসেঞ্জার ট্রেনকে তুলনায় উচ্চ গতির মেমু ট্রেনে পরিবর্তিত করা হয়েছে। এর ফলে আট আর্থিক বছরের সময়সীমায় প্যাসেঞ্জার ট্রেনের গড় গতি ঘণ্টায় ৩৩.৯ কিলোমিটার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ঘণ্টায় ৩৭.৪ কিলোমিটারে এসে পৌঁছেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, ২০১৫-১৬ আর্থিক বছরে সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার ১২৮টি সাবার্বান ট্রেন পরিষেবা দেওয়া হত। ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে তা সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে দৈনিক গড়ে ৫ হাজার ৩৯৬টি পরিষেবায় পৌঁছেছে।