• ডাক্তার, নার্স, টেকনোলজিস্ট সহ ৪২ পদে ১০ হাজার নিয়োগ করবে রাজ্য
    বর্তমান | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রায় ১০ হাজার কর্মী নিয়োগ করছে স্বাস্থ্যদপ্তরের জাতীয় মিশন শাখা (ন্যাশনাল হেলথ মিশন বা এনএইচএম)। বর্তমানে দপ্তরের এই শাখায় চুক্তির ভিত্তিতে প্রায় ২৬ হাজার কর্মী কাজ করেন। তাতে যুক্ত হবেন আরও ১০ হাজার। মেডিকেল অফিসার, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, আয়ুষ চিকিৎসক, নার্স, কমিউনিটি হেলথ অফিসার বা সিএইচও, এএনএম, সুপারভাইজার, অ্যাসিস্ট্যান্ট, কাউন্সেলর, ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্ট, কনসালট্যান্ট, প্রোগ্রাম ম্যানেজার সহ ৪২ ধরনের কর্মী নিয়োগ করা হবে। ইতিমধ্যেই বহু জেলায় নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। স্বাস্থ্যভবন থেকে স্পষ্ট নির্দেশ, আদর্শ নির্বাচনি আচরণবিধি লাগু হওয়ার আগেই শেষ করে দিতে হবে প্রক্রিয়া। এমনই জানা গিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তরের পদস্থ সূত্রে। 

    দপ্তর সূত্রে খবর, কয়েক হাজার কোটি টাকা আটকে রাখার পর অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকার এনএইচএম খাতে মুঠো কিছুটা আলগা করেছে। এই সপ্তাহে তারা রাজ্যকে এককালীন ৫০০ কোটি টাকা অনুদান (এক্ষেত্রে শ্যাডো ফান্ড) দিয়েছে। এই বিপুল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনুমোদন এসেছে অবশ্য তার অনেক আগেই, স্টেট বাজেট থেকে।  

    কেন্দ্রীয় প্রকল্প জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনে ৬০-৪০ অনুপাতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য অর্থ বরাদ্দ করে। এই প্রকল্পের বাৎসরিক ‘বাজেট’ আনুমানিক তিন হাজার কোটি টাকা। গত মার্চে শেষবার সিন্ধুতে বিন্দুর মতো আনুমানিক সাড়ে তিনশো কোটি অনুদান দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তারপর চলেছে দীর্ঘকালীন মৌনতা! ফলে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ, জনস্বাস্থ্য সহ অসংখ্য জরুরি কাজকর্মে সংকটজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাজ্য অর্থ সাহায্য করে বেতন এবং আপদকালীন বিষয়গুলির টাকা মেটাতে থাকে। 

    দপ্তরের এক কর্তা বলেন, তিন হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৩১ মার্চের মধ্যে কেন্দ্রের দেওয়ার কথা ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ১৮০০ কোটি টাকা। তার মধ্যে সদ্য তারা দিয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। অর্থবর্ষের বাকি দেড় মাসের মধ্যে পাওয়ার কথা আরও ১৩০০ কোটি। 

    স্বাস্থ্যদপ্তরের বেঁধে দেওয়া ফরমুলায় নয়া নিয়োগ করবে ডিস্ট্রিক্ট সিলেকশন কমিটি। তার চেয়ারম্যান হলেন প্রতিটি জেলার জেলাশাসক। সংশ্লিষ্ট জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে করা হয়েছে সদস্য সচিব। এছাড়াও ওই কমিটিতে রাখা হয়েছে এডিএম, ওসি হেলথ সহ অ্যান্য পদাধিকারীরা। দক্ষিণবঙ্গের একটি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, জোরকদমে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। তাঁর জেলায় এই প্রক্রিয়া ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা।
  • Link to this news (বর্তমান)