নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মাইক্রো অবজার্ভারদের একাংশের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করল দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। কারণ, শুনানিতে বিভিন্ন ভোটারের জমা দেওয়া নথিপত্র যাচাই করে আপলোডের পরও বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন তাঁরা। সন্দেহের আওতায় থাকা নামগুলি পুনর্বিবেচনা করতে বলছেন সংশ্লিষ্ট মাইক্রো অবজার্ভার। শুধু তাই নয়, এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে নানা নথি চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এমনকি, বিএলওদের কাছে থাকা ফাইলপত্র চেয়ে নিচ্ছেন অনেকে। মাইক্রো অবজার্ভারদের এই ‘অতি সক্রিয়তা’ নিয়ে নির্বাচনি আধিকারিকদের কাছে অভিযোগ এসেছে বিভিন্ন বিধানসভা থেকে। সেই মতো মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের অফিসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে জেলা প্রশাসন। তবে প্রশ্ন উঠেছে, এসব কি বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার কৌশল?
সূত্রের খবর, সোনারপুর উত্তর, সোনাপুর দক্ষিণ, বারুইপুর পূর্ব, বারুইপুর পশ্চিম, বিষ্ণুপুর, গোসাবা বিধানসভায় ভোটারদের যাচাই হওয়া তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেগুলি পুনর্বিবেচনা করতে বলেছেন মাইক্রো অবজার্ভাররা। এখনও পর্যন্ত এমন সাড়ে ৬ হাজার ভোটারের তথ্য ‘রিভিউ’ করতে বলা হয়েছে। অথচ দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ ভোটারই কমিশনের নিয়ম মেনে নথি জমা দিয়েছেন। যেমন, গোসাবা বিধানসভায় এক ভোটারের ছবি দেখে মাইক্রো অবজার্ভার প্রশ্ন তুলেছেন, ভোটার তালিকা ও ইনিইউমারেশন ফর্মের ছবি আলাদা! যদিও সংশ্লিষ্ট ভোটার নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন মেনে নথি জমা দিয়েছেন। এরকম আরও উদাহরণ রয়েছে। এই অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মাইক্রো বজার্ভারের বিরুদ্ধে নালিশ করতে বাধ্য হয়েছেন নির্বাচনি আধিকারিকরা।
বারুইপুর পূর্ব বিধানসভায় অভিযোগ আরও মারাত্মক! সেখানে বেশ কয়েকজন বিএলও’র থেকে এসআইআর সংক্রান্ত ফাইলই নিয়ে নেওয়া হয়েছে। ‘নো ম্যাপ’ চিহ্নিত ভোটারদের ইনিইউমারেশন ফর্ম রাখাছিল সেসব ফাইলে। যদিও এসব নথি নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই বলেই দাবি প্রশাসনিক মহলের। এছাড়া, খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছেন, এমন কয়েকজনের থেকে ‘ব্যাপ্টিজম সার্টিফিকেট’ চাওয়া হয়েছে। যদিও শুনানিতে এটির কোনো প্রয়োজন ছিল না। আগ বাড়িয়ে কেন এমন নথি চাওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, এই প্রবণতা চলতে থাকলে আরও অনেক বৈধ ভোটারের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেওয়া যাবে। তাই একটা বড় সংখ্যক ভোটার চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগতে শুরু করেছেন।