নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শনিবার শেষ হয়ে গেল সপ্তদশ বিধানসভার অধিবেশন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে আর কোনো অধিবেশন নেই। তাই অধিবেশন কক্ষ থেকে শুরু করে বিধানসভার লবি—সব জায়গাতেই চলল ধন্যবাদ জ্ঞাপনের পালা। গত পাঁচ বছর একসঙ্গে সদনের আসন ভাগ করে নেওয়া বহু বিধায়ক নিজেদের মোবাইলে বিভিন্ন ছবি ফ্রেমবন্দি করে রাখতে ভুললেন না। তৈরি হল একাধিক আবেগঘন মুহূর্ত। এসবের মধ্যেই শাসক-বিরোধী বিধায়করা নির্বাচন পরবর্তী অষ্টাদশ বিধানসভা নিয়ে আড্ডায় মাতলেন। আসন্ন নির্বাচনে কারা দলের টিকিট পাবেন, কে কে জিততে পারেন, সেসব আলোচনা চলল দিনভর। সকালে লবিতে রাখা রেজিস্টারে সই করতে করতে এক বর্ষীয়ান বিধায়ক বলেন, ‘সইটা করে দিলাম। আজ শেষ দিন। জানি না, আর করতে পারব কি না!’ তাঁর এমন কথা শুনে অন্য এক বিধায়ক বলে উঠলেন, ‘আপনি থাকছেন স্যার। আপনি জিতছেন স্যার।’ সারাদিন এমন অনেক মুহূর্ত তৈরি হল।
অধিবেশনে ধন্যবাদ জ্ঞাপন পর্বে গত পাঁচ বছর বিধানসভা পরিচালনা সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা সমগ্র দেশে একটি মাইলস্টোন। সমানভাবে শাসক এবং বিরোধীদের সুযোগ করে দেয় এই বিধানসভা। তাঁর সংযোজন, ‘গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা করতে আমাকে কখনো কখনো কড়া ভূমিকা পালন করতে হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকের সহযোগিতা পেয়েছি।’ অধিবেশনের শেষ দিনে দায়িত্ব নিয়ে একাধিক বিল পাশ করানোর জন্য মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক চলায় অধিবেশন শেষে ‘ভোট অফ থ্যাঙ্কস’ পর্বে থাকতে পারেননি পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বিধানসভায় জানান, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আবার বিধানসভা নির্বাচনে ২৫০ আসনে জিতে আমরা এই অধিবেশনে আসব।’ তবে সকালে অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন বিল নিয়ে আলোচনা চলাকালীন পরিষদীয় মন্ত্রীকে নিজের বক্তব্য রাখার জন্য অতিরিক্ত সময় না দেওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়।
বিরোধী পক্ষ থেকে শেষ বক্তা গোঘাটের বিজেপি বিধায়ক বিশ্বনাথ কারক তাঁর এলাকার রাস্তা নির্মাণে সহযোগিতা করার জন্য মন্ত্রী বেচারাম মান্নাকে ধন্যবাদ জানান। তবে কটাক্ষের সুরে তাঁর মন্তব্য, ‘বর্তমান সরকারের বিশ্রামের প্রয়োজন।’ তাঁর ওই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় যা কাজ করেছেন, তা দেশের কোনো রাজ্যে হয়নি। ফের ক্ষমতায় এসে আরও অনেক কাজ করবেন তিনি। বিরোধীদেরই আসলে বিশ্রামের প্রয়োজন। তাদের আসন ৩০-এ নেমে যাবে।’
এদিন কার্শিয়াংয়ের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপদ শর্মা জানিয়ে দেন, তিনি এখন থেকে ‘স্বাধীন’ হয়ে গেলেন! বিজেপির হয়ে তিনি আর বিধায়ক হয়ে আসবেন না। কারণ, বিজেপি মানুষকে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে তিনি অন্য কোনো দলে যাবেন কি না, স্পষ্ট করেননি। এদিকে, শুক্রবার বিধানসভায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘ক্রিমিনাল’ বলার অভিযোগে বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির আবেদন জানিয়ে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস দেওয়া হয়েছে তৃণমূল পরিষদীয় দলের তরফে।