৩ বছর আনা যাবে না অনাস্থা প্রস্তাব, লক্ষ্য ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে আরও উন্নত পরিষেবা
বর্তমান | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পরিষেবা প্রদান এবং উন্নয়নমূলক কাজের সুফল সব স্তরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন পঞ্চায়েত প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যকরী স্থায়িত্ব। সেই স্থায়িত্ব সুনিশ্চিত করতে শনিবার বিধানসভায় পাশ হল পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল। এই বিল অনুযায়ী পঞ্চায়েত প্রতিষ্ঠানগুলিতে তিন বছর আগে কোনো অনাস্থা প্রস্তাব আনা যাবে না। বর্তমানে এই সময়সীমা আড়াই বছর। সংশোধনী অনুযায়ী গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে প্রধান এবং উপপ্রধান, পঞ্চায়েত সমিতিতে সভাপতি এবং সহকারী সভাপতি, জেলা পরিষদে সভাধিপতি এবং সহকারী সভাধিপতিদের বিরুদ্ধে তিন বছর আগে আর অনাস্থা নিয়ে আসা যাবে না। এক্ষেত্রে নির্বাচনের তারিখ থেকে পরবর্তী তিন বছর ধরা হবে। নির্বাচিত হওয়ার পর অন্তত তিন বছর এই পদাধিকারীদের পদচ্যুত করার জন্য অনাস্থা প্রস্তাব আনা যাবে না। এমনকি পুনর্গঠন ক্ষেত্রেও কোনো পদক্ষেপ করা যাবে না।
পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানিয়েছেন, রাজ্যের গ্রামোন্নয়ন খাতে একাধিক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সাধারণত ডিসেম্বর মাসে গ্রামসভার বৈঠক করে প্রতিটি পঞ্চায়েত এলাকায় কী কী কাজ হবে, তার পরিকল্পনা হয়। এপ্রিল মাসে নতুন অর্থবর্ষ শুরু হলেই প্রকল্প রুপায়ণের জন্য টাকা দেওয়া শুরু হয়। হঠাৎ করে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে এলে এসব কাজ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মানুষ পরিষেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারে। এই সংশোধনীর ফলে তেমন সম্ভাবনা আর থাকবে না বলেই মনে করছেন মন্ত্রী। তবে রাজনৈতিক মহলে এই সংশোধনী ঘিরে ইতিমধ্যে নানা চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকার এক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির যুক্তি দিলেও বিরোধীরা এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হওয়ার আশঙ্কা দেখছে।