নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শনিবার বিধানসভায় পাশ হল হাওড়া পুরসভা সংশোধনী বিল, ২০২৬। এর ফলে হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে জটিলতা চলছিল, তাতে ইতি টানা সম্ভব হল। এই সংশোধনীর ফলে হাওড়া পুরসভার মোট ওয়ার্ড সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৬৬। নির্বাচনেও আর কোনো বাধা থাকছে না। ফলে বিধানসভা ভোট মিটলেই হাওড়ায় পুর নির্বাচনের জোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ২০১৩ সালের পর আর পুর নির্বাচন হয়নি হাওড়ায়। অর্থাৎ দীর্ঘ ১৩ বছর পর পুর প্রতিনিধি নিবার্চনের সুযোগ পেতে চলেছেন হাওড়া পুরসভার ২০ লক্ষ ভোটার।
এই সংশোধনী আনার জন্য কয়েক মাস আগেই ছাড়পত্র দিয়েছিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। শনিবার বিধানসভায় সংশ্লিষ্ট বিল নিয়ে আলোচনায় পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানান, হাওড়া পুরসভা সংক্রান্ত আগের বিলটি পাঁচ বছর রাজভবনে পড়েছিল। তাই আইনি জটিলতা তৈরি হয়। রাজভবনের অসহযোগিতার জন্যই নির্বাচন করা যায়নি। এই সংশোধনী বিল পাশ হয়ে গেলে ভোটে আর কোনো বাধা থাকবে না। হাওড়া পুরসভার একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে উত্তর হাওড়া বিধানসভা। সেখানকার বিধায়ক গৌতম চৌধুরী বলেন, ‘ওয়ার্ড বাড়লে আরও ভালো পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে। উপকৃত হবেন বাসিন্দারা।’
কিন্তু কেন এই সংশোধনী বিল আনতে হল? ২০১৫ সালে হাওড়া পুরসভার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল বালি পুরসভাকে। যার ফলে হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬। সেই মতো আইনও সংশোধন করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২১ সালে বালিকে আলাদা করে দেওয়ায় হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা কমে হয় ৫০। সেই মতো হাওড়া পুরসভার আইনে ওয়ার্ড সংখ্যা কমাতে ফের সংশোধনী নিয়ে আসা হয়। সেই বিলই বিধানসভায় পাশ হওয়ার পর দীর্ঘদিন পড়ে থাকে রাজভবনে। তখন একপ্রকার বাধ্য হয়েই হাওড়া পুরসভার ৫০টি ওয়ার্ডকে ছোটো ছোটো করে ভেঙে (দীর্ঘমেয়াদি ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে) ৬৬টি ওয়ার্ডে পরিণত করে রাজ্য। তার কয়েক মাস পরে পড়ে থাকা বিলে সম্মতি দেয় রাজভবন। ফলে নতুন করে জটিলতার সৃষ্টি হয়। কারণ, তত দিনে ডিলিমিটেশন করে হাওড়া পুরসভা ওয়ার্ড সংখ্যা ৬৬ করে ফেলা হয়েছে। আর রাজভবন পড়ে থাকা বিলে সম্মতি দিয়ে দেওয়ায় হাওড়া পুরসভা আইনে ওয়ার্ড সংখ্যা ফের হয়ে যায় ৫০। তাই ৬৬টি ওয়ার্ডকে আইনিভাবে স্বীকৃতি দিতেই শনিবার সংশোধনী বিল নিয়ে আসা হয়। এই বিল রাজভবন দ্রুত ছেড়ে দিলেই মিটবে জটিলতা। তারপর হাওড়ার পুরভোট স্রেফ কিছু সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।