• বদলাচ্ছে মাধ্যমিকের সিলেবাস, অন্তর্ভুক্ত মহাভারত, ‘স্মার্ট’ হবে বিজ্ঞানও
    বর্তমান | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ব্যাপক রদবদল হতে চলেছে মাধ্যমিকের সিলেবাসে। ২০২৭ সালে কয়েকটি ক্লাসে অনেকটাই নতুন সিলেবাসে পড়বে ছাত্রছাত্রীরা। বাংলা, বিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলিতে আসছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। সেই সঙ্গে কর্মশিক্ষার বর্তমান সিলেবাসের ‘অপ্রয়োজনীয়’ বিষয়গুলি বাদ দিয়ে কিছু সময়োপযোগী সংযোজন হচ্ছে। পাশাপাশি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে মহাভারতও। সিলেবাস কমিটির চেয়ারপার্সন অদিতি নাগ চৌধুরী বলেন, ‘কিছু সমস্যা রয়েছে। সেগুলি মিটিয়ে ২০২৭ সালেই আমরা সংশোধিত সিলেবাস চালু করে দিতে পারব বলে আশা।’ 

    সিলেবাস পরিবর্তনের মাধ্যমে বিজ্ঞানে আসছে কিছু যুগোপযোগী পরিবর্তন। এক কথায় ‘স্মার্ট’ হচ্ছে ভৌতবিজ্ঞান বা জীবন বিজ্ঞানের বইগুলি। যেসব ক্ষেত্রে ভিডিয়ো দেখে শেখার সুযোগ আছে, সেখানে তাতেই উৎসাহ দেওয়া হবে। এমনিতে চলতি বছরেই শিক্ষাদপ্তর বইগুলির সঙ্গে কিউআর কোড দিয়েছে। সেটি স্ক্যান করে অনলাইনে প্রতিটি অধ্যায়ের ভিডিয়ো দেখে নিতে পারছে পড়ুয়ারা। সূত্রের খবর, নতুন বই এমনও হতে পারে, যেখানে নির্দিষ্ট কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা কোনো চ্যাপ্টারের আকর্ষণীয় ভিডিয়ো কোথায় মিলবে, তা বলা থাকবে। উল্লেখযোগ্য বদল আসতে চলেছে মাধ্যমিক স্তরের বাংলায়। সিলেবাসে ‘মহাভারত’-এর অংশবিশেষ তুলে আনা নিয়ে সম্মত হয়েছে স্কুল সিলেবাস এক্সপার্ট কমিটি। আসছে ৩০-৪০ বছর আগে জনপ্রিয় কিছু টেক্সট ও কবিতা। ব্যাপকভাবে আসছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখাও। সপ্তম শ্রেণির বাংলা ভাষার ‘র‌্যাপিড রিডার’ হিসাবে থাকা লীলা মজুমদারের ‘মাকু’ গল্পটি বাদ যাচ্ছে। কারণ, এটি বয়সোপযোগী নয় বলে শিক্ষকদের একটা বড়ো অংশের আপত্তি ছিল। 

    ইংরেজির ক্ষেত্রেও ক্লাস ভেদে কমবেশি পরিবর্তন হচ্ছে সিলেবাস। নীচু ক্লাসের কর্মশিক্ষা পুরোপুরি আধুনিক করা হচ্ছে। বাদ দেওয়া হচ্ছে কিছু পুরানো বিষয়। কমিটির এক কর্তা বলেন, ‘এখন আর স্কুলে ধূপকাঠি, মোমবাতি, ফিনাইল বা সাবান তৈরি শিখিয়ে লাভ নেই। এগুলির জন্য বড়ো বড়ো কোম্পানি রয়েছে। স্কুল থেকে এসব শিখে পরবর্তীতে কেউ সেটাই পেশা হিসাবে বেছে নেবে, এমনটা আমার মনে হয় না। তাই আর্ট এডুকেশন, কম্পিউটারে জোর দেওয়া ভালো।’ কর্মশিক্ষায় ধান, পাট প্রভৃতি চাষের বিষয়গুলি বাদ দেওয়ার সুপারিশও এসেছে। ওই কর্তা বলেন, ‘চাষিদের তো আর চাষ শেখানোর কিছু নেই। স্কুলের বইয়ে পড়ে চাষ শেখা সম্ভবও নয়। এগুলি রাখার কোনো মানে নেই।’ আর্ট এবং ওয়ার্ক এডুকেশন বইয়ের বেশ কিছু ছাপার ভুল সংশোধন করা হচ্ছে। 

    প্রসঙ্গত, স্কুলে ছুটি না পাওয়া, অ্যাকাডেমিক সহ অন্যান্য কাজের চাপ সামলে কাজ চালাতে হচ্ছে সিলেবাস কমিটিকে। একাধিক সদস্য ব্যক্তিগত বা পেশাগত কারণ দেখিয়ে আসতে পারছেন না। কেউ আবার পদত্যাগ করেছেন। ফলে ডেডলাইন ধরে এগতে পারছে না কমিটি। চেয়ারপার্সন বলেন, ‘সব বিষয়েরই কাজ চলছে। এটা ঠিক, স্কুল থেকে ছুটি পেতে শিক্ষকদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে ২০২৭ সালেই সংশোধিত সিলেবাস চালু করা নিয়ে আমরা আশাবাদী।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)