• হাজির ‘মৃত’রা! ফর্ম ৭’এ বিজেপির কারসাজি প্রকাশ্যে
    বর্তমান | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও বারাকপুর: এসআইআর পর্বে ‘ফর্ম ৭’-এর (নাম বাদ দেওয়ার আবেদনের) শুনানি শুরু হয়েছে শনিবার। আর তা আরম্ভ হওয়ামাত্রই পদ্মপার্টির ‘কারসাজি’ প্রকাশ্যে চলে এল। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ‘ফর্ম ৭’ জমা দিয়ে বহু জীবিত মানুষকে ‘মৃত’ বলে চালিয়ে দেওয়া চেষ্টা হয়েছিল। এদিন শুরু হওয়া শুনানিতে এসে বিক্ষোভ দেখালেন তাঁরাই। মূলত উত্তর ২৪ পরগনার গ্রামীণ অংশ থেকে ভোটার হেনস্তার এহেন ভূরি ভূরি অভিযোগ এসেছে। এমনকি ২০০২ সালের তালিকায় নিজেদের বা বাবা-মা’র নাম থাকা সত্ত্বেও, ‘ডিফ্যাক্টো’ (মৃত বা অন্যত্র চলে যাওয়ার অভিযোগ সম্বলিত আবেদন জমা পড়েছে যাঁর বা যাঁদের বিরুদ্ধে) ভোটার বলে চিহ্নিত করার উদাহরণও মিলেছে। বিষয়টি নিয়ে বিডিও অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে শুনানি কেন্দ্রেও। 

    সবচেয়ে বড় অভিযোগ এসেছে খড়দহ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পানিহাটি পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে। ‘ফর্ম ৭’ জমা দিয়ে এই ওয়ার্ডের ১৩৩ নম্বর বুথের ১৪৫ জন নাগরিককে ‘মৃত’ বলে দাবি করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে খোকন মোল্লা ও কুতুবউদ্দিন মোল্লার মতো অনেকেই এদিন সশরীরে হাজির হয়ে জীবিত থাকার দাবি করে এসেছেন। খড়দহ বিধানসভার বিলকান্দার ২১৫ জন ভোটারের গায়ে ‘ফর্ম ৭’-এর দৌলতে ‘নন ইন্ডিয়ান’ তকমা লেগেছে। নীলকান্ত-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের এহেন ব্যক্তিদের অথবা তাঁদের বাবা-মা’র নাম রয়েছে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায়। পাসপোর্টও রয়েছে তাঁদের। কেন তাঁরা ‘অভারতীয়’ বলে চিহ্নিত হলেন? তুমুল বিক্ষোভ চলে বিডিও অফিসে। কমিশন সূত্রের খবর, সুজয় ঢালি এবং ভুবনজিৎ মিস্ত্রি নামে দুই বিজেপি কর্মী ওই ভোটারদের সম্পর্কে আপত্তি সম্বলিত ‘ফর্ম ৭’ জমা দিয়েছেন। বিজেপি নেতা জয় সাহার বক্তব্য, ‘রোহিঙ্গা ও অনুপ্রবেশকারীদের নাম নিয়েই আপত্তি জানানো হয়েছে। তারা ভারতীয় বলে নিজেদের প্রমাণ করুক।’ বাদুড়িয়ার ৪৫ নম্বর বুথের ৩৩ জনকে ‘মৃত’ এবং ৮০ নম্বর বুথের ১২ জনকে একইভাবে ‘ডিফ্যাক্টো ভোটার’ দেখানো হয়েছে। বিডিও অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন সেই ‘মৃত’রা। তাঁদেরই একজন প্রাক্তন সেনাকর্মী এলাহি বক্স নিজের ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ও দাবি করেছেন কমিশনের কাছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)