শুনানির হয়রানি আরও ৭ দিন, বাসস্থানের শংসাপত্রে শেষ মুহূর্তে সায় কমিশনের, চূড়ান্ত তালিকা ২১ ফেব্রুয়ারি?
বর্তমান | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে এসআইআরের শুনানির সময় বাড়ছে আরও সাতদিন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শনিবার এই পর্বের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজ্যের অন্তত ৭-৮টি জেলায় শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। তাই নির্বাচন কমিশনের কাছে শুনানির সময় আরও একসপ্তাহ বৃদ্ধি করার আবেদন জানিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। সূত্রের খবর, সেই আর্জিকে মান্যতা দিতে চলেছে কমিশন। অর্থাৎ, দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস শুনানির নামে ভোটারদের যেভাবে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে, সেই হয়রানি চলবে আরও সাত দিন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তাহলে কবে প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা? এই প্রশ্নে সিইও বলেন, শুনানি শেষের পর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুযায়ী চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়ে থাকে। আপাতত শুনানির সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি জানানো হয়েছে। তাতে অনুমোদন মিললে পরবর্তী সাত দিন অর্থাৎ ২১ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতে পারে।
জানা যাচ্ছে, রাজ্যের ৭-৮টি জেলার অন্তত ১৫-২০টি বিধানসভায় শুনানির কাজ বাকি। এদিন সেকথা জানিয়ে রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন, ‘বিভিন্ন জেলায় শুনানির কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। বেশিরভাগ জায়গাতেই কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। মাত্র ৩-৪ শতাংশ শুনানির কাজ এখনও বাকি।’ কোন কোন বিধানসভা কেন্দ্রে শুনানি এখনও চলবে? প্রশ্নের জবাবে সিইও আরও স্পষ্ট করেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৭টি, কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, কার্শিয়াংয়ের একটি করে বিধানসভায় শুনানি সম্পূর্ণ শেষ করা যায়নি বলে তাঁকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট জেলার ডিইও তথা জেলাশাসকরা। এছাড়া নথি আপলোডের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। ৭০ শতাংশ নথি যাচাই বা ভেরিফিকেশনও সম্পন্ন।
এই পরিস্থিতিতে আরও একটি বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছে কমিশন। এসআইআরে স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট ছিল গ্রহণযোগ্য নথি। তবে সেই সার্টিফিকেট হিসাবে কোন শংসাপত্রগুলি বৈধ হিসাবে গণ্য হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা জিইয়ে রেখেছিল কমিশন। এদিন শুনানি পর্বের একেবারে শেষ মুহূর্তে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। সিইও অফিসে চিঠি পাঠিয়ে কমিশন জানিয়েছে, জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক এবং কলকাতার ক্ষেত্রে কালেক্টর যে সকল বাসস্থানের শংসাপত্র দিয়েছেন, সেগুলিকেই মান্যতা দেওয়া হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে বিভিন্ন সরকারি আধিকারিক যে-কোনো ব্যক্তিকে স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র দিতে পারেন। কিন্তু সেগুলি বৈধ নথি হিসাবে গণ্য করা হবে না। একইসঙ্গে কমিশন জানিয়েছে, শংসাপত্রগুলি অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ১৯৯৯ সালের নিয়ম মেনে তৈরি হতে হবে। এই নির্দেশ কঠোরভাবে পালন করতে বলা হয়েছে ইআরও-এইআরওদের। এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সকল অফিসারকে তা জানিয়ে দিতে হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছে কমিশন। এর আগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি পাঠিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, কমিশন নির্ধারিত ১৩টি নথির মধ্যে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট রয়েছে। কিন্তু একাধিক ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এই অভিযোগের পরই পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট নিয়ে কমিশনের এই নির্দেশিকা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।