এই সময়, পুরুলিয়া: র্যাগিংয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের দুই পড়ুয়ার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল কলেজ কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্তদের দু'বছরের জন্য সাসপেন্ড করার পাশাপাশি অবিলম্বে হস্টেল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার এই নির্দেশ দেওয়ার পরই অভিযুক্ত দুই পড়ুয়া হস্টেল ছেড়ে যান বলে কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, অভিযুক্তরা আর কোনও দিনই এই মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলে ফিরতে পারবেন না। শনিবার বিষয়টি জানিয়েছেন মেডিক্যাল কলেজের সুপার সুকমল বিষয়ী।
গত ১ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে বয়েজ় হস্টেলে র্যাগিংয়ের ঘটনাটি ঘটেছিল। প্রথম বর্ষের এক পড়ুয়ার অভিভাবক লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগে ওই পড়ুয়া জানিয়েছেন, ১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার পরে বয়েজ় হস্টেলের গ্রাউন্ড ফ্লোরের একটি ঘরে প্রথম বর্ষের একাধিক পড়ুয়াকে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁদের অসম্মান, গালিগালাজ এবং বিভিন্ন অপমানজনক কাজ করানো হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সিনিয়র পড়ুয়া অয়ন বাগচী ও ঋষভকুমার সিংহ এই র্যাগিংয়ের নেতৃত্ব দেন। রাত প্রায় সাড়ে তিনটে নাগাদ অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হলেও ওই পড়ুয়াকে যেতে দেওয়া হয়নি। অভিযোগকারীর দাবি, পরে তাঁকে মোবাইল ফোন আনতে বলা হয় এবং ফোনের লক খুলতে নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রথমে তিনি রাজি না–হওয়ায় হুমকি ও মারধর শুরু হয়। ভয়ে ফোন আনলক করলে তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য দেখা হয় বলে অভিযোগ।
পড়ুয়ার দাবি, পরে আবার ফোন লক হয়ে গেলে আবার আনলক করতে বলা হয়। তিনি বলেন, 'আমি ফোন আনলক করতে চাইনি বলে বিছানায় ফেলে আমাকে মারা হয়। হাতে-পায়ে ধরেও ছাড়া পাইনি। ওই দুই সিনিয়র ছাত্র সেখানে হাজির অন্যদেরও নির্দেশ দিচ্ছিল, তাঁরাও যেন আমার উপরে চড়াও হয়ে মারধর করেন। এ ভাবে সকাল প্রায় সাড়ে সাতটা পর্যন্ত আমার উপরে নির্যাতন চলে। আমার দুই কানের পাশে মারা হয়েছিল, আমি ভালো করে শুনতে পাচ্ছিলাম না।'
পরের দিন তিনি দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজের পুরাতন ক্যাম্পাসে চিকিৎসার জন্য যান এবং সেখানে তাঁকে ভর্তি করা হয়। পরে মুর্শিদাবাদে থাকা পরিবারের সদস্যদের গোটা ঘটনা জানান। তাঁর মা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে বিধি অনুযায়ী পদক্ষেপ করার দাবি করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরে শুক্রবার কলেজের অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি বৈঠকে বসে। সেই বৈঠকে নির্যাতিত পড়ুয়া ও অভিযুক্ত দুই পড়ুয়াকেই ডাকা হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের সুপার। বিষয়টি রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তাকেও জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার পুরুলিয়া মফস্সল থানায় অভিযুক্ত দুই পড়ুয়ার বিরুদ্ধে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
নির্যাতিত পড়ুয়া বর্তমানে ক্যাম্পাসেই রয়েছেন। তিনি জানান, ঘটনার পরে মানসিক আতঙ্ক থাকলেও এখন সবাই পাশে রয়েছেন। তাঁর কথায়, 'আমাকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। চাই না ভবিষ্যতে আর কোনও পড়ুয়া এ ধরনের র্যাগিংয়ের শিকার হোক।' এই ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপে তাঁর পরিবার সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি।