ভোটের কাজে বাস অধিগ্রহণে ভাড়া বৃদ্ধির দাবি, স্মারকলিপি সিন্ডিকেটের
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাস সিন্ডিকেটের দাবি, রাজ্যে যে কোনও নির্বাচন এলেই নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিগত মালিকানাধীন বাস ও মিনিবাস অধিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু সেই অধিগ্রহণের বিনিময়ে যে ভাড়া দেওয়া হয়, তা দীর্ঘদিন ধরেই বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ নয়। বর্তমান দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানির লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচের কথা মাথায় রেখে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের দাবি তুলেছেন বাস মালিকরা।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু বাস ভাড়াই নয়, চালক ও কন্ডাক্টর-সহ শ্রমিকদের দৈনিক খোরাকি বা ভাতার পরিমাণ নিয়েও প্রবল অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বাস সিন্ডিকেটের বক্তব্য, বর্তমানে যে ভাতা দেওয়া হয়, তা দিয়ে শ্রমিকদের পক্ষে নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বাস ভাড়া ও শ্রমিকদের ভাতা সংক্রান্ত দাবি নিয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে গেলে তারা বিষয়টি পরিবহণ দপ্তরের উপর ছেড়ে দিচ্ছে। আবার পরিবহণ দপ্তরে গেলে বলা হচ্ছে, এটি নির্বাচন কমিশনের আওতাভুক্ত। এই দপ্তরগত টানাপড়েনের ফলে সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বাস মালিক এবং শ্রমিকরা।
চিঠিতে প্রশাসনের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বাস সিন্ডিকেটের অভিযোগ, দায়িত্ব এড়ানোর এই প্রবণতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে কোনও স্থায়ী সমাধান বেরোয়নি। ফলে প্রত্যেকটি নির্বাচনের সময় একই সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে পরিবহণ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের।
জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট স্পষ্ট জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে নির্বাচনের সময়ে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। কিন্তু ন্যায্য ভাড়া ও শ্রমিকদের প্রাপ্য সম্মানজনক ভাতা নিশ্চিত না হলে পরিষেবা সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। অবিলম্বে পরিবহণ দপ্তরের হস্তক্ষেপে একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান সূত্র বের করার দাবি জানিয়েছে সংগঠন।
বাস মালিক সংগঠনের দাবি মানা না হলে, নির্বাচনের আগে বাস মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তার প্রভাব পড়তে পারে নির্বাচনী পরিবহণ ব্যবস্থার উপরও। এমন ইঙ্গিত দিয়ে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে বাস সিন্ডিকেট।