অরূপ বসাক: অসাবধানতার চরম মাশুল দিতে হল জলপাইগুড়ির বাগ্রাকোট গ্রাম পঞ্চায়েতের সাওগাঁ বস্তির এক স্কুল পড়ুয়াকে। সেনাবাহিনীর ফায়ারিং রেঞ্জে না ফাটা মর্টার শেল নাড়াচাড়া করতে গিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত্যু হল বাগ্রাকোট উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের একাদশ শ্রেনির এক ছাত্র রৌনক চৌধুরীর। রবিবার সকালে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মাল থানার সাওগাঁ বস্তি সংলগ্ন তিস্তার চরে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে ফায়ারিং জারি থাকলেও রবিবার তা বন্ধ ছিল। সেই সুযোগে এদিন সকালে ওই ছাত্রটি বাড়ি থেকে ৩ কিলোমিটার দূরের সেনার ফায়ারিং রেঞ্জ থেকে একটি পরিত্যক্ত ও না ফাটা মর্টার শেল নাড়াচাড়া করাতেই সেটি আচমকা ফেটে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মৃত কিশোরের দেহ ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকার মানুষ। জানা গিয়েছে বিস্ফোরণের আওয়াজ প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লিসরিভার চা বাগান থেকেও পরিষ্কার শোনা গিয়েছে।
বস্তুত, উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহত্তম সেনা ফায়ারিং রেঞ্জ হল এই সাওগাঁ বস্তি সংলগ্ন তিস্তার চর এলাকা। প্রতি বছর জানুয়ারি মাস থেকে এখানে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট অস্ত্র প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। প্রশিক্ষণের পর বিস্তীর্ণ চরে পড়ে থাকে শেলের অসংখ্য টুকরো এবং অনেক ক্ষেত্রে 'না ফাটা' তাজা শেল আর ওই না ফাটা শেলগুলোকে টার্গেট করেই ফায়ারিং রেঞ্জ থেকে কুড়িয়ে আনতে যায় এলাকার কিছু যুবক।
এলাকায় এই ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে এখানে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এই সমস্ত শেল কুড়িয়ে তার ভেতর থেকে মূল্যবান পিতল বের করেন। সংগৃহীত সেই ধাতু ভাঙাচোরা লোহালক্করের দোকানে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করার নেশায় এখনও রাশ টানা যায়নি।প্রশাসনিক স্তরে বিষয়টি নিয়ে সাওগাঁ বস্তি এলাকায় একাধিক বার সচেতনতা কর্মসূচি পালন করা হলেও কাজের কাজ যে কিছুই হয়নি। রবিবারের ঘটনায় তা আরও একবার প্রমাণিত।
বিষয়টি নিয়ে সেনাবাহিনীর তরফে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মাল থানার পুলিস মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেচ্চাসেবি সংগঠন ডুয়ার্স এক্সপ্রেস মেলের সভাপতি রাজু নেপালী বলেন, সেনাবাহিনীর নির্দেশ না মানায় এই দুর্ঘটনা ঘটলো। পুলিস ঘটনার তদন্ত করছে।