জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'কার্যকরী উদ্য়োগ নিয়েছেন'। SIR নিয়ে মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুপ্রিম সওয়ালের প্রশংসা করলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মু্খ্যমন্ত্রী ও সিপিএম নেতা মানিক ভট্টাচার্য। বলেন, 'দেরি হলেও প্রতিবাদটা যে করার চেষ্টা করেছেন, কোর্টে যেভাবে গিয়েছেন, সেটা খাটো করে দেখতে চাইছি না'।
SIR মামলায় নিজে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ত্রিপুরা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক বলেন, 'তিনি মুখ্য়মন্ত্রী, অ্যাডভোকেট দুটোই। কিন্তু তিনি কোর্টে দাঁড়িয়ে বলছেন, আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আসিনি, আমি অ্যাডভোকেট হিসেবে এসেছি। প্রচারে মুখ্যমন্ত্রী কথাই এসেছে'।
মানিকের কথায়, 'ভালোই তো। তিনি গিয়েছেন। মূল সমস্যাগুলি ৬-৭ পয়েন্ট তুলে ধরেছেন। আগামীকাল সোমবার প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্টে যে বেঞ্চ, তারা একবার শুনবেন। আমি দেখি, অপেক্ষা করি'। তাঁর মতে, 'যদিও শ্রীমতি বন্দ্যোপাধ্যায় দেরি করে ফেলেছেন। আরও আগে তাঁর যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু দেরি হলেও প্রতিবাদটা যে করার চেষ্টা করেছেন, কোর্টে যেভাবে গিয়েছেন, সেটা খাটো করে দেখতে চাইছি না। আমি বলব, কার্যকরী উদ্য়োগ নিয়েছেন। দেখা যাক ভবিষ্য়তে কী দাঁড়ায়'।
বিজেপি নেতা সজল ঘোষের কটাক্ষ, 'মানিক সরকার একজন বিশিষ্ট ভদ্রলোক রাজনীতিবিদ। একজন ভদ্রলোক যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একজন দুর্নীতিগ্রস্ত, সেটাও যখন পর্দার আড়ালে নেই, জনসমক্ষে চলে এসেছে, তখন যখন কেউ প্রশংসা করে, জানবেন কোনও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা আছে। এটা সিপিএমের নির্দেশেই সিপিএমের সঙ্গে তৃণমূলে যে আঁতাত, সেকারণেই মমতার মধ্যে এখন দেবতাকে দেখতে পাচ্ছে'।
SIR সংঘাত তুঙ্গে। স্রেফ মামলা করাই নয়, সুপ্রিম কোর্টে নিজে সওয়াল করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কবে? গত বুধবার। যা বেনজির।শীর্ষ আদালতে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে কমিশনকে নিশানা করেন তিনি। বলেন, 'কেন বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে? কেন এসআইআর নিয়ে অযথা এত তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে? বাংলায় যখন উ।সবের আবহ তখন তাদের নোটিস পাঠানো হচ্ছে। ১০০ জন বিএলও মারা গিয়েছেন। এসব শুধু বাংলাতেি কেন করা হচ্ছে? কেন অসমে নয়'? 'হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন' কটাক্ষও শোনা যায় তাঁর মুখে। এরপর সেদিন সন্ধ্যায় নবান্নে চলে আসে কমিশনের চিঠি। অত্যন্ত কড়া সেই চিঠিতে রাজ্য়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। শুধু তাই নয়, সোমবারের মধ্য়ে রিপোর্টও তলব করেছে কমিশন।