• ভোটের আগে ‘প্রবাসে’ নজর ছেড়ে নিজের দুর্গ রক্ষার নিদান বঙ্গ BJP বিধায়কদের
    এই সময় | ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • মণিপুষ্পক সেনগুপ্ত

    নিজের দুর্গ রক্ষা করে অন্য জায়গায় দুর্গ তৈরির ভার পড়েছিল তাঁদের উপর। কিন্তু তাতে নিজের গড়ই নড়বড়ে হওয়ার জোগাড়। তাই বঙ্গের বিজেপি বিধায়কদের কাছে এলো নয়া নির্দেশিকা। যার সারমর্ম— আপনি বাঁচলে বাপের নাম! অর্থাৎ, পদ্ম বিধায়কদের আর নতুন দুর্গ গড়তে হবে না। তাঁদের আপাতত নিজেদের দুর্গ রক্ষা করার উপরেই জোর দিতে বলা হয়েছে।

    রাজ্যের বিধানসভা কেন্দ্রগুলিকে বেশ কয়েকটি ক্যাটিগরিতে ভাগ করেছে বিজেপি। বর্তমানে বাংলার ৬৫টি বিধানসভা কেন্দ্র তাদের দখলে। এর বাইরে আরও ১০০টি আসনকে তারা চিহ্নিত করেছে ‘সম্ভাবনাময়’ কেন্দ্র হিসেবে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মতে, এই আসনগুলিকে বিজেপির দুর্গে পরিণত করা খুব কঠিন নয়। প্রয়োজন শুধু পরিকল্পনামাফিক নজরদারি। আর সেই পরিকল্পনা তৈরির কাজেই বঙ্গ বিজেপি বিধায়কদের মাঠে নামানো হয়েছিল — উদ্যোগের নাম ছিল ‘বিধায়কদের প্রবাস কর্মসূচি’। দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, প্রত্যেক বিজেপি বিধায়ক জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারিতে দু’দিন করে কোনও একটি ‘সম্ভাবনাময়’ বিধানসভা কেন্দ্রে রাত কাটাবেন। সেখানে তাঁরা স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন, এলাকার মানুষের মনোভাব বুঝবেন এবং সেইমতো সেখানে বিজেপির দুর্গ তৈরির ব্লু–প্রিন্ট বানাবেন। এখানেই শেষ নয়, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে বিধায়কদের এ কথাও বলা হয়েছিল যে, ওই বিধানসভা আসনগুলিতে সব কাজ পরিকল্পনামাফিক হচ্ছে কি না, সেটাও নিয়মিত নজরে রাখতে হবে তাঁদের। অর্থাৎ, নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের পাশাপাশি আরও একটি বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব নিতে হবে প্রত্যেক বিধায়ককে।

    কিন্তু আচমকাই দিন দুয়েক আগে দিল্লি থেকে বিজেপি বিধায়কদের জন্য নতুন নির্দেশিকা এসে পৌঁছেছে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নিজের বিধানসভা কেন্দ্রেই সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাতে হবে। অর্থাৎ, ফেব্রুয়ারিতে বিজেপি বিধায়কদের ‘প্রবাস কর্মসূচি’ বাতিল। দক্ষিণবঙ্গের এক পদ্ম বিধায়কের কথায়, ‘বলা হয়েছে, অন্য কোনও বিধানসভায় ছুটতে হবে না। নিজের আসন যাতে অক্ষত থাকে, সে দিকেই নজর দিতে হবে এখন থেকে। ২০২১–এর বিধানসভা ভোটে খুব কম মার্জিনে হারা একটি আসনের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছিল। জানুয়ারি মাসে সেখানে দু’দিন টানা ছিলাম। ফেব্রুয়ারিতেও সেখানে সংগঠনের কাজে যাওয়ার কথা ছি‍ল। এখন বলা হচ্ছে, আর যেতে হবে না। আপাতত নিজের চরকায় তেল দিলেই চলবে। আমি যে কেন্দ্রের বিধায়ক, সেখানেই পাকাপাকি ভাবে ঘাঁটি গাড়তে বলা হয়েছে।’

    হঠাৎ কেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের রণকৌশল বদল?

    দলের এক বর্ষীয়ান নেতার ব্যাখ্যায়, ‘আমাদের দখলে থাকা সব আসনেই যে আমরা এ বার জিতব, তার কোনও ‍নিশ্চয়তা নেই। হারা সিট দখল করতে গিয়ে জেতা সিট না হাতছাড়া হয়! এই আশঙ্কা শুরু থেকেই ছিলই। সময়ের সঙ্গে তা আরও তীব্র হতে শুরু করেছে।’ সূত্রের খবর, বিধানসভা ভোটের মুখে বিধায়কদের উপরে অতিরিক্ত কেন্দ্রের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন তুলেছিল দলের একাংশ। বেশ কয়েক জন বিজেপি বিধায়ক ঘনিষ্ঠ মহলে এ বিষয়ে উষ্মা প্রকাশও করেছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের রোষে পড়ার ভয়ে তাঁরা কেউই প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। ‘প্রবাস কর্মসূচি’ বাতিল হওয়ায় আপাতত স্বস্তিতে তাঁরা। বিজেপির উত্তরবঙ্গের এক বিধায়কের কথায়, ‘নিজের কেন্দ্রেই সমস্যার শেষ নেই। সংগঠনে নানা জটিলতা। সে সব সামলে ছুটতে হতো অন্য বিধানসভা কেন্দ্রে দলীয় সংগঠনের ফাঁকফোকর মেরামত করতে। ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়া‍নোর মতো। কর্মসূচি বাতিল হয়েছে, বেঁচে গিয়েছি।’

  • Link to this news (এই সময়)