• মাটি কেটে ধ্বংস চাষের জমি, গাইঘাটায় নির্বিকার প্রশাসন
    এই সময় | ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, গাইঘাটা: এক শ্রেণির জমি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি। অভিযোগ, প্রকাশ্যে জমি থেকে ২৫ থেকে ৩০ ফুট গভীর করে কেটে নেওয়া হচ্ছে মাটি। কৃষি জমি থেকে এ ভাবে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে সেই সব জমি চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। তেমনই আশপাশের জমিতেও ধস নামছে। মাটি মাফিয়ারা দিনের পর দিন গাইঘাটা ব্লকের ইছাপুর-১ নম্বর পঞ্চায়েতের গরিবপুর এলাকার বিঘের পর বিঘে জমি থেকে মাটি কেটে পাচার করছে বলে অভিযোগ বাসিন্দা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের। স্থানীয় পঞ্চায়েত এবং ব্লক প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাটি মাফিয়াদের হাত ধরে নষ্ট হচ্ছে গাইঘাটা ব্লকের কৃষি জমি।

    গাইঘাটা ব্লকের ইছাপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের গরিবপুর গ্রামের অধিকাংশ মানুষ চাষের সঙ্গে যুক্ত। বিঘার পর বিঘা জমিতে ধান ও সব্জির চাষ হয়। চাষিদের ওই জমিকেই এ বার টার্গেট করেছে এক শ্রেণির মাটি মাফিয়া। স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষি জমি থেকে বেআইনি ভাবে ২৫-৩০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে অন্যত্র পাচার করা হচ্ছে। দিনে রাতে নম্বর প্লেটবিহীন ট্রাক্টর বোঝাই করে মাটি কেটে পাচার করা হচ্ছে। মাটি বোঝাই ট্রাক্টর ক্রমাগত গ্রামের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার ফলে রাস্তার অবস্থা বেহাল হয়ে যাচ্ছে। আশপাশের কৃষি জমিও নষ্ট হচ্ছে। ধস নামার আশঙ্কাও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসন ও পঞ্চায়েতের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোন সুরাহা হয়নি।

    পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি এলাকা পরিদর্শনে যান গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এবং রাস্তার অবস্থা ঘুরে দেখেন। মানুষের ক্ষোভ শুনে সুব্রত বলেন, 'এই ভাবে মাটি কেটে পরিবেশ ও জনগণের সম্পত্তি নষ্ট করা মেনে নেওয়া যায় না। আমি আইনিভাবে যা যা করার সব করব, যাতে এই কারবার অবিলম্বে বন্ধ হয়।' ইছাপুর-১ পঞ্চায়েতের প্রধান জয়দেব হাজরা বলেন, 'এই পঞ্চায়েতের গরিবপুর থেকে জমির মাটি কাটা হচ্ছে। এটা বন্ধ করতে কেউ এগিয়ে আসে না। বর্তমান পঞ্চায়েত বোর্ড মাটি কাটার বিরুদ্ধে। বিএলআরও-র সঙ্গেও কথা হয়েছে।'

  • Link to this news (এই সময়)