সৌমিত্র ঘোষ, বালি
হাওড়ার বালিব্রিজ হয়ে বালি থেকে দক্ষিণেশ্বর ও উল্টো পথে দক্ষিণেশ্বর থেকে বালি আসার পথে বালি প্রান্তের দু’দিকেই ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তার উপরের স্তর উঠে, বড়সড় গর্ত তৈরি হয়েছে একাধিক। বালিঘাট স্টেশন থেকে বালিহল্ট যাওয়ার রাস্তা ভেঙেচুরে বিপজ্জনক হয়ে রয়েছে বেশ কয়েক মাস। বর্ষার সময় থেকেই দক্ষিণেশ্বর থেকে বালি আসার পথে বালিঘাট স্টেশনের কাছে রাস্তার উপরের বিটুমিনের স্তর উঠে, গাড়িচালক ও দু’চাকা চালকদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। দক্ষিণেশ্বরের দিক থেকে বালিব্রিজ হয়ে রাস্তাটি সোজা টোল ফ্রি রোড হয়ে বালিহল্ট ছুঁয়ে জাতীয় সড়ক পর্যন্ত গিয়েছে। বালি নিমতলা জিটি রোড থেকে অন্য এক রাস্তা একটি র্যাম্প দিয়ে বালি ব্রিজের সঙ্গে যুক্ত। নিমতলা র্যাম্প যেখানে ব্রিজের রাস্তায় যুক্ত হয়েছে, সেই মোড়ের মাথাতেও রাস্তার অবস্থা বিপজ্জনক। সেখানে রীতিমতো বড়সড় গর্ত হয়ে রয়েছে, যে কোনও সময়ে ছোট গাড়ি অথবা মালবাহী গাড়ি উল্টে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে ওখানে।
দীর্ঘদিন রাস্তার এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নজর নেই কারও। নেই কোনও প্রশাসনিক পদক্ষেপ। যদিও এই এলাকাটি বালি পুরসভার মধ্যেই পড়ছে, তা সত্ত্বেও বালি পুর প্রশাসন বিষয়টি পূর্ত দপ্তরের দায়িত্ব বলে নিজেদের দায় ঝেড়ে ফেলতে চায়। গত বর্ষা থেকেই দু’টি রাস্তার বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ভুগছেন যাত্রী থেকে গাড়িচালক, সবাই। যথেষ্ট সাবধানতার সঙ্গে যেতে হচ্ছে মোটরবাইক ও স্কুটার আরোহীদেরও। বিশাল গর্ত ও ঝুরো স্টোন চিপে যে কোনও মুহূর্তেই বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে এখানে। মাঝেমধ্যে ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও। বালিব্রিজ হয়ে জাতীয় সড়ক ধরে হাওড়া ও হুগলির অসংখ্য রুটের বাস ও অন্যান্য গাড়ি যাতায়াত করে। ফলে, প্রতি মুহূর্তেই অসংখ্য গাড়ির চাপ থাকে ব্রিজ সংলগ্ন ওই রাস্তায়। দক্ষিণেশ্বরের যানজট পেরিয়ে বাসগুলি দ্রুত গতিতে ছুটে আসে বালির দিকে। বালিঘাট স্টেশনের বাসস্টপে ওঠানামা করেন অসংখ্য যাত্রী। এর পরে বাস ছুটে চলে বালিহল্ট অভিমুখে। বাসের পিছনে ছোট গাড়ি, ছোট মালবাহী গাড়ি, বাইক ও ব্যক্তিগত গাড়ি দ্রুত গতিতে বালিহল্ট পৌঁছতে চায়। ডানলপ থেকে বালিহল্ট ও বালিখাল রুটের অটো রিকশাও চলে এই রাস্তা দিয়ে।
আবার জাতীয় সড়কের দিক থেকে বালিহল্ট হয়ে যে সব গাড়ি হাওড়া ও বালি যাবে, তারাও ওই একই রাস্তা দিয়ে এসে নিমতলা র্যাম্প ব্যবহার করে জিটি রোড ধরে। হাওড়ামুখী গাড়ি নিমতলা থেকে সোজা জিটি রোড ধরে যায়। হুগলির উত্তরপাড়ামুখী গাড়ি নিমতলায় ইউ টার্ন নিয়ে বালিখালের দিকে যায়। হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতা অর্থাৎ তিন-চারটি জেলার সংযোগস্থলে এই রাস্তার গুরুত্ব অসীম। তা প্রশাসনিক কর্তারাও জানেন। তা সত্ত্বেও মাসের পর মাস রাস্তার বেহাল দশায় হুঁশ নেই যেন কারও।
চরম ব্যস্ত এই রাস্তায় বাস ও গাড়িগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতা লেগে থাকে প্রায়ই। এত ব্যস্ত অথচ ভাঙাচোরা রাস্তায় মাসের পর মাস মেরামতি না হওয়ায়, স্বভাবতই প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ যাত্রীরা। রাস্তার বেহাল দশায় তাড়াহুড়োয় বাস ধরতে গিয়ে গর্তে পড়ে জখমও হচ্ছেন যাত্রীদের কেউ কেউ। এই অবস্থায় কবে ফিরবে রাস্তার হাল? তা নিয়ে শুধু পুরসভায় নয়, চাপানউতোর রয়েছে রাজ্যের পূর্ত দপ্তরের নানা বিভাগের মধ্যেও। পূর্ত দপ্তরের হাওড়ার এক আধিকারিক জানান, বালিব্রিজ ও সংলগ্ন রাস্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি দেখে কলকাতা(নর্থ সাবার্বন) বিভাগ। সম্প্রতি বালি পুরসভায় রাস্তাশ্রী প্রকল্প নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিধায়ক রানা চট্টোপাধ্যায়কে বালিতে জিটি রোড–সহ আরও কয়েকটি বড় রাস্তার দুরবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের উন্নয়নের কাণ্ডারী। তিনি সব রাস্তার হাল ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। যে সমস্ত রাস্তা খারাপ আছে, সেগুলির কাজও হবে।’