অয়ন ঘোষাল: হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আত্মীয়কে দেখতে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক পরিণতি। জোকা ইএসআই হাসপাতালের সামনে দ্রুতগামী প্রাইভেট গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারালেন অরূপ মণ্ডল (৪৪) নামে এক ব্যক্তি। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর সঙ্গে থাকা আরও এক আরোহী। বর্তমানে তিনি নীলরতন সরকার (NRS) হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর ৫টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে জোকা ইএসআই হাসপাতালের ঠিক প্রবেশপথের মুখে। মৃত অরূপ বাবু মহেশতলা থানা এলাকার আশুতির বাসিন্দা ছিলেন। এক আত্মীয় হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তাঁকে দেখতেই ভোরে বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন তিনি। হাসপাতালের গেটের সামনে পৌঁছাতেই একটি বেপরোয়া গতির প্রাইভেট গাড়ি তাঁদের সরাসরি ধাক্কা মারে।
ধাক্কার তীব্রতায় বাইক থেকে ছিটকে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন অরূপ বাবু ও তাঁর সঙ্গী। বিকট শব্দ শুনে হাসপাতালের কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা ছুটে আসেন। ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন অরূপ বাবু। তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত জোকা ইএসআই হাসপাতালেই নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসকরা অরূপ মণ্ডলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর সঙ্গীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে তড়িঘড়ি কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ঠাকুরপুকুর থানার পুলিস। ঘাতক গাড়িটি দুর্ঘটনার পরই দ্রুত গতিতে চম্পট দেয়। পুলিস জানিয়েছে, অভিযুক্ত গাড়ি ও চালকের খোঁজে হাসপাতালের সামনে এবং বিভিন্ন সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাতসকালে এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হাসপাতালের সামনে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং গতিরোধক ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়দের একাংশ।
উল্লেখ্য, রবিবার কলকাতায় লরির ধাক্কায় মৃত দুই ডাক্তারি পড়ুয়া। মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে বেহালার ঠাকুরপুকুরে। পুলিস সূত্রে খবর, একজনের নাম ফাইয়াজ মল্লিক, আর একজন আনন্দ প্রিয়দর্শী। ২ জনই জোকার ESI হাসপাতালের MBBS পড়ুয়া। গত শনিবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে বাইকে নিয়ে বেরিয়েছিলেন ফাইয়াজ ও আনন্দ। তখন ফিরছিলেন। ঠাকুরপুকুর থানার পূর্ব পাড়া জেমস সরণীতে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তাঁরা। দুই ডাক্তারি পড়ুয়াকে পিষে দিয়ে চলে যায় লরি।