কানপুরের ল্যাম্বরঘিনি দুর্ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রথমে FIR দায়ের করতে চায়নি পুলিশ। কিন্তু জনতার চাপে শেষে প্রভাবশালী অভিযুক্তের শিবম মিশ্রের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করতে বাধ্য হয় পুলিশ। রবিবার কানপুরে দ্রুতগতির ল্যাম্বরঘিনির ধাক্কায় জখম কমপক্ষে ছয়। ঘটনায় পুলিশ প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয়ের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর শিবম তাঁর বাউন্সারদের সাহায্যে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পথচারীরা তাঁকে ধরে ফেলেন।
উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা শিবম মিশ্র-র পরিবার এর আগেও নানা বিতর্কে জড়িয়েছে। শিবমের বাবা কে কে মিশ্র এলাকার প্রভাবশালী তামাক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালে তাঁদের তামাক সংস্থায় আয়কর হানা হয়েছিল। সেই সময় তাঁদের দিল্লির বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি উদ্ধার হয়েছিল। সেই তালিকায় এই ল্যাম্বরঘিনিও ছিল। আরও জানা গিয়েছে, সব কটি গাড়ির নম্বর প্লেটে ‘৪০১৮’ সংখ্যা ছিল। রবিবারের দুর্ঘটনার পরে ফের শিবম ও তাঁর পরিবারের নাম খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে।
রবিবারের দুর্ঘটনার পর গাড়ি থামানোর বদলে শিবম পালানোর চেষ্টা করেন। তাঁর পিছনে অন্য একটি গাড়িতে বাউন্সাররা আসছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, বাউন্সাররা শিবমকে ভিড়ের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। আরও অভিযোগ, তাঁরা পথচারীদের সঙ্গেও অভব্য আচরণ করেন। এর পর উত্তেজিত জনতা ল্যাম্বরঘিনির কাঁচ ভেঙে শিবমকে টেনে বের করে আনে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
রবিবার দুপুরের দিকে কানপুরের গোয়ালটোলি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শিবম মদ্যপ অবস্থায় প্রায় ১০ কোটি টাকার গাড়ি চালাচ্ছিলেন। গাড়িটি প্রথমে একটি অটো ও পরে একটি রয়্যাল এনফিল্ড বাইকে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল, যে বাইক আরোহী বেশ কিছুটা দুরে ছিটকে পড়েন। গাড়ি বাইকটিকে কিছু দূর টেনে নিয়ে গিয়ে একটি ইলেকট্রিক পোলে ধাক্কা মারে।