লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে সরব বিরোধীরা। বাজেট অধিবেশনেই তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রস্ততি নিচ্ছে বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, বিতর্ক এড়াতে ক্ষমতাসীন সরকার আলোচনার অনুমতি দিতে রাজি নয়। সেই মতোই কথা বলতে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। সংসদ বারবার মুলতুবি করে দিচ্ছেন লোকসভার অধ্যক্ষ। সোমবারও বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বলতে দেওয়ার দাবি তোলে কংগ্রেস। সেই অনুমতি মেলেনি। হট্টগোলে দফায় দফায় মুলতুবি সংসদ।
সূত্রের খবর, বিরোধীরা বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে এটি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করবেন। কারণ, এর জন্য ২০ দিনের নোটিস প্রয়োজন। এই পদক্ষেপের জন্য যে কারণগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে: লোকসভায় বিরোধী দলের নেতা (LoP)-কে কথা বলার সুযোগ না দেওয়া। মহিলা সাংসদদের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ, ট্রেজারি বেঞ্চের কিছু সাংসদকে সবসময়ে সংসদে বিশেষ অধিকার দেওয়া এবং ৮ জন বিরোধী সাংসদকে পুরো অধিবেশন জুড়ে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত।
বিরোধীদের ক্ষোভ মূলত তুঙ্গে ওঠে গত বৃহস্পতিবার। সে দিন প্রধানমন্ত্রীর বাজেটের জবাবি ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লোকসভার অধিবেশন শুরুর আগেই বিরোধীদের প্রতিবাদ ও স্লোগানিংয়ের হেতু মুলতুবি করে দেওয়া হয়। বিড়লা বলেন, ‘বিরোধী দলের মহিলা সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে অপ্রত্যাশিত কিছু করতে পারেন’, এই তথ্য পেশ করে তিনি সংসদ মুলতুবি করে দেন।
কংগ্রেসের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর আসন ঘিরে মহিলা সাংসদরা যখন প্ল্যাকার্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তখন মোদী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন,‘প্রধানমন্ত্রীর উপর কারও হাত তোলার বা তাঁকে আঘাতের চেষ্টা করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। কারও এমন কোনও পরিকল্পনাও ছিল না। প্রধানমন্ত্রী এখন স্পিকারের আড়ালে লুকিয়ে আছেন... তাঁর (প্রধানমন্ত্রীর) সামনে আসার সাহস নেই।’
এ ছাড়া রাহুল গান্ধীকে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানের বই থেকে কিছু অংশ পড়তে বাধা দেন স্পিকার। অথচ, বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেকে কংগ্রেস এবং গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে লেখা বই পড়তে অনুমতি দেন ওম বিড়লা। সেই তথ্য উল্লেখ করেও ভোটাভুটিতে আহ্বান জানানো হবে । সেই সময়ে সভাপতির আসনে থাকা টিডিপির কৃষ্ণা টেনেতি দুবেকে জায়গায় বসতে বলেছিলেন কিন্তু বিজেপি সাংসদ সেই নির্দেশ মানেননি। তার পরেও কেন দুবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।
রিপোর্টিং- অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়