রণজয় সিংহ: কথাতেই আছে, কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ। ছাব্বিশের ভোটের আগে শাসক-বিরোধী দলবদলের সমীকরণ যেন ঠিক সেই কথাই বলছে! আবার ভাঙন কংগ্রেসের। মৌসম বেনজির নূর তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পরই শুরু হয়েছে ভাঙন। রাজ্যের মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের তথা মোথাবাড়ি বিধানসভার বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন তাঁর কেন্দ্রেই কংগ্রেস ঘরে ভাঙন ধরিয়েছেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে একে অপরের ঘর ভাঙাভাঙিতে জমজমাট মালদার রাজনীতি।
কালিয়াচক ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির কংগ্রেস সদস্য ও বিজেপি নেতা সহ প্রায় শতাধিক কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মী যোগ দিলেন তৃণমূলে। কংগ্রেস ও বিজেপিতে থেকে কাজ করা যাচ্ছিল না, তৃণমূলে যোগদানের পর প্রতিক্রিয়া নবাগতদের। যোগদানকারীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ও মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন। নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে ততই বাড়ছে দলবদলের হিড়িক।
মোথাবাড়ি বিধানসভার উত্তর পঞ্চানন্দপুরের পর এবার রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতেও কংগ্রেস-বিজেপিতে ভাঙন। পঞ্চায়েত সমিতির কংগ্রেস সদস্য ও স্থানীয় বিজেপি নেতা সহ তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন শতাধিক কর্মী। যদিও এই দলবদলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ কংগ্রেস নেতৃত্ব। মালদা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সায়েম চৌধুরী বলেন, এই দলবদলে কংগ্রেসের কোনও ক্ষতি হবে না। যারা দল ছাড়ছেন, তারা ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে যাচ্ছেন।
মন্ত্রীর পায়ের তলায় মাটি নেই তাই এই ধরনের দলবদল করাচ্ছেন। ভয় দেখিয়ে টাকার লোভ দিয়ে দলবদল করানো হচ্ছে। প্রতিক্রিয়া বিজেপির। বিজেপি দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, প্রতিদিন তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেস বিজেপিতে যোগদান চলছে। উনি কোনও খবর রাখেন না। ছাব্বিশে ওনার দলের নেতারাই অন্য জায়গায় ভোট দিয়ে বাস্তব চিত্রটা উনাকে বুঝিয়ে দেবেন।
রাজ্যের মন্ত্রী তথা মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনের আবার অভিযোগ, গোপনে কংগ্রেস ও বিজেপি গোপন আঁতাত করেছে তাঁকে পরাজিত করার জন্য। তবে সেই ষড়যন্ত্র সফল হবে না। বিগ জিরো পাবে কংগ্রেস। লবডঙ্কা হবে মৌসমদের পরিকল্পনার। উলটো গোনার সময় এসেছে কংগ্রেসের। উল্লেখ্য, এবার বিধানসভা ভোটে ২৯৪টি আসনেই একা লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। কারও সঙ্গে কোনও জোট নয়।