পড়ুয়াদের সঙ্গে বচসা বিধায়কের। রবিবার রাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তপ্ত হলো নদিয়ার করিমপুর এলাকা। পড়ুয়াদের অভিযোগ ছিল, বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূলের বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহ রায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সোমবার সকালে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। ভোটমুখী বঙ্গে এই ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়েছে নদিয়ায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, করিমপুরের তৃণমূল বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহ রায় রবিবার রাতে একটি কর্মসূচি থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময়ে বিধায়কের বাড়ির পাশেই রয়েছে একটি কোচিং সেন্টার। সেখান থেকে বেরিয়েছিলেন উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়ারা। তাঁদের কাছে সাইকেল ছিল। সকলের একসঙ্গে ছুটি হয়ে যাওয়ায় সাময়িক ভাবে কোচিংটির সামনে জটলা তৈরি হয়। সেই সময়েই বিধায়কের গাড়ি সেখানে পৌঁছয়। বিধায়কের অভিযোগ, তিনি একাধিক বার হর্ন দিলেও তাঁর গাড়ি যাওয়ার জন্য রাস্তা ছেড়ে দেওয়া হয়নি। পাল্টা পড়ুয়াদের অভিযোগ, তাঁদের সরে যাওয়ার সময়টুকু দেওয়া হয়নি। বিধায়ক বিভিন্ন ভাবে তাঁদের ধমকাতে থাকেন। এর পরে বিধায়ককে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে, এই দাবিতে তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন পড়ুয়ারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় করিমপুর থানা পুলিশ। কিছুক্ষণ পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পড়ুয়াদের ধমক দেওয়া বা হমকি দেওয়া সংক্রান্ত সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহ রায়। তিনি দাবি করেছেন, একাধিক বার হর্ন দেওয়ার পরেও ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে যাওয়ার জন্য রাস্তা দিচ্ছিল না। এর পরে তিনি উত্তেজিত হয়ে ছাত্রছাত্রীদের সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তারা কোন ক্লাসে পড়াশোনা করে, সেই বিষয়টিও জানতে চান। তাঁর অভিযোগ, পুরো বিষয়টিই বিজেপির চক্রান্ত।
পাল্টা নদিয়া উত্তরে বিজেপির প্রচার প্রমুখ সন্দীপ মজুমদার বলেন, ‘বিমলেন্দু সিংহ রায় নিজে একজন শিক্ষক। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি সমাজবিরোধীদের মতো আচরণ করলেন। বাড়ি ফেরার সময়ে উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়াদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন।’ এই ঘটনায় থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।