• বাইকে করে ডিউটিতে যাচ্ছিলেন যুবক, সন্দেহের বশে গণপিটুনি ইঞ্জিনিয়ার যুবককে
    এই সময় | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ‘চোর’ সন্দেহের বশে এক যুবককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ। প্রহৃত যুবকের সৌম্যদীপ চন্দ। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে খড়্গপুর গ্রামীণের ভেটিয়া সংলগ্ন আনরকলি এলাকায়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে ভুবনেশ্বরের একটি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। স্পাইনাল কর্ডে গুরুতর চোট পেয়েছে ওই যুবক বলে পরিবারের দাবি। স্পাইনাল কর্ডে গুরুতর আঘাতের কারণে তিনি সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন বলেও আশঙ্কা করছেন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    পরিবার সূত্রে খবর, পেশায় ইঞ্জিনিয়ার সৌম্যদীপ চন্দ পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ি ব্লকের গিলেগেড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। চাকরি করেন খড়গপুর জাতীয় সড়কের পাশে একটি কারখানায়। রবিবার রাতে তাঁর নাইট ডিউটি ছিল। সেজন্যই গিলাগেড়িয়া থেকে বাইকে করে, গ্রামীণ সড়ক ধরে কারখানার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। রাত ১০টা নাগাদ খড়্গপুর গ্রামীণের আনরকলি এলাকায় তাঁকে রাস্তায় একা পেয়ে ওই এলাকার বাসিন্দারা ঘিরে ধরেন বলে অভিযোগ। সৌম্যদীপ নিজের পরিচয়পত্র দেখানো সত্ত্বেও তাঁকে নির্মমভাবে প্রহার করা হয় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে প্রাণভিক্ষা করেন সৌম্যদীপ। ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে সেই সংক্রান্ত ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে, অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ভুবনেশ্বরের একটি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যান।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন প্রান্তে চুরির অভিযোগ উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ ‘নথি’ চুরি করতে গ্রামে নাকি অজানা কেউ বা কারা আসছে এরকম রটনা ছড়িয়েছে। সতর্কতামূলক মাইকিং চলছে পুলিশের তরফে। সেইসঙ্গেই ঝাড়গ্রাম জেলার প্রায় সব থানা এলাকাতেই গ্রামে গ্রামে রাতে চলছে পুলিশের টহল। এ দিকে, ঝাড়গ্রামের সেই গুজবের রেশ এসে পড়েছে ঝাড়গ্রাম লাগোয়া পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন গ্রামেও। কেশিয়াড়ি থানার পুলিশ রবিবার রাতে চারটি গ্রামে চালায় নজরদারি। খড়গপুর গ্রামীণেও চলছে নজরদারি। গ্রামে পাহারারত মানুষদের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশের আধিকারিকেরা। সেই কারণেই সন্দেহের বশে সৌম্যদীপকে মারধর করা হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

    সৌম্যদীপের কাকু রিন্টু চন্দ ফোনে এই সময় অনলাইনকে বলেন, ‘ছুটিয়ে ছুটিয়ে নির্মম ভাবে মারা হয়েছে। কোন কথাই শোনেনি ওই এলাকার বাসিন্দারা। স্পাইনাল কর্ডে গুরুতর আঘাত পেয়েছে ও। এইমাত্র বড়সড় অস্ত্রপচার হয়েছে। অস্ত্রপচার সফল হলেও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আগের অবস্থায় হয়তো কোনদিনই আর ফিরতে পারবেনা ও।’

    জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, 'রবিবার রাতে খড়্গপুর গ্রামীণের ওই এলাকায় একটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে। তবে, মারধরের কথা অস্বীকার করেছেন গ্রামবাসীর। তাঁদের দাবি, দুর্ঘটনার কারণেই যুবক আঘাত পেয়েছেন। যদিও, আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। ওই যুবক সুস্থ হয়ে আগে ফিরে আসুক। তাঁর সাথেও কথা বলব আমরা।’

  • Link to this news (এই সময়)