মাদক পাচার চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ। বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুর শরিফুল ইসলামের প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা শুরু করলো লালগোলা থানার পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে নলডহরি গ্রামে শরিফুলের প্রাসাদোপম তিন তলা বাড়ি। যদিও রাজনৈতিক অভিসন্ধি থেকেই এই কাজ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাদক কারবারের অর্থে লালগোলা থানার নলডহরি গ্রামের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম ওই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি বানিয়েছেন বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের রেভিনিউ ডিপার্টমেন্ট ওই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ জারি করে। লালগোলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির উৎস ওই পরিবার দেখাতে পারেনি। ফলে, প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কাজ শুরু হয়েছে।’
হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘রাজনৈতিক ভাবে আমার মোকাবিলা করতে না পেরে পুলিশকে দিয়ে অন্যায় ভাবে আমার মেয়ের শ্বশুরের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। পুলিশের কাজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। কিন্তু সে কাজ ছেড়ে তাঁরা জমি-জায়গা মাপজোক করতে ব্যস্ত। লালগোলা থানার এসডিপিও, লালগোলা থানার সিআই এবং লালগোলা থানার ওসি'র বিরুদ্ধে আমরা আদালতে যাব। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।’
বিষয়টি নিয়ে মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার বলেন, ‘মুর্শিদাবাদের সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার সুবাদে অবৈধ সম্পত্তি রয়েছে। এনডিপিএস আইনে সেই সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। এমনকী ওই সম্পত্তি অন্য কোনও কাজে ব্যবহার হয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
অন্য দিকে, শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার দোষ আমি হুমায়ুন কবীরের আত্মীয়। আমার নিজস্ব ইটভাটা ছাড়াও অনুষ্ঠান বাড়ি এবং জমি কেনা-বেচা ব্যবসা-সহ একাধিক ব্যবসা রয়েছে। সেখান থেকে বছরে কয়েক কোটি টাকা রোজগার হয়।’