মিল্টন সেন, হুগলি, ৯ ফেব্রুয়ারি: আলোক শিল্প নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ। সোমবার চন্দননগর আলো হাব ভবনে কর্মসংস্থানমুখী আধুনিক ও উন্নত দক্ষতা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। ২০১৭ সালের ১ জুন এই আলো হাব প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। চন্দননগরের আলোক শিল্পের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আলোক ব্যবসা প্রসারের লক্ষ্যে ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আলো হাবের উদ্বোধন করেন। রাজ্য কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তর প্রায় ৪৮০০ বর্গমিটার আয়তনের এই ভবনটি নির্মাণের জন্য ১৪.৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে করে। সেই ভবনের উপরের তলাটি প্রায় ১৬৫০ বর্গমিটার। স্থানীয় যুবক–যুবতীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন কর্মসংস্থানমুখী উন্নত দক্ষতা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনে ভবনের উপরের তলাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে শুরু হয়েছে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকট্রিশিয়ান ডিস্ট্রিবিউশন বিষয়ক স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ। লক্ষ্য হাউস ওয়ারিং টেকনিশিয়ান প্রশিক্ষণ দেওয়া। রাজ্যে মূলত যেসব গৃহস্থালি ইলেকট্রিশিয়ানদের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ বা সার্টিফিকেট নেই, তাদের দক্ষতার স্বীকৃতির জন্য ৭ দিনের একটি নতুন স্বল্পমেয়াদী ‘হাউস ওয়ারিং টেকনিশিয়ান কোর্স’। ‘জাকুয়ার ফাউন্ডেশনের’ সহযোগিতায় ১২০০ বর্গফুট এলাকায় একটি অত্যাধুনিক ‘লাইটিং ল্যাব’ স্থাপন করা হয়েছে। সংস্থার বিশেষজ্ঞ টেকনিশিয়ানরা প্রশিক্ষণ দেবেন। এই ল্যাবের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৫০০ জন স্থানীয় যুবক–যুবতীকে উন্নত মানের আলঙ্কারিক আলোকসজ্জা কোর্সে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রার্থীরা সরকারি শংসাপত্র এবং কর্মসংস্থানে সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি আতিথেয়তা শিল্প বিভাগে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় হোটেল চেইন গ্রুপ ‘তাজ স্যাটস’ এবং ‘টাটা স্ট্রাইভ’ এর সহযোগিতায় ৩৬০০ বর্গফুট এলাকায় আরও একটি অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। টাটা গ্রুপের বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষকরা প্রতি বছর প্রায় ২০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেবেন। ৪ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীরা দেশের শীর্ষস্থানীয় হোটেলগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। এবার রাজ্য সরকারের উদ্যোগে মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের তত্ত্বাবধানে এই আলোক শিল্পকে সামনে রেখে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হল। যে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি হবে কর্মসংস্থান। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে নানান বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় ছাত্র ছাত্রীদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হল।
আলোকশিল্পের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি হসপিটালিটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকছে। লক্ষ্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি করা। রাজ্যব্যাপী কর্মরত অথবা কর্মপ্রার্থী ইলেকট্রিশিয়ানদের জন্য বিশেষ স্বল্প মেয়াদি এই প্রশিক্ষণ। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ শেষে বিদ্যুৎ দপ্তরের সহযোগিতায় ওয়ার্কমেন পারমিট পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হবে শিক্ষানবিশদের। এদিন প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ, পর্যটন বিভাগ, এবং কারিগরী শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। চন্দননগর আলো হাব বিল্ডিংয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব অনুপ কুমার আগরওয়াল, চন্দননগরের মহানাগরিক রাম চক্রবর্তী, উপমহানাগরিক মুন্না আগরওয়াল, ভদ্রেশ্বরের পুরপ্রধান প্রলয় চক্রবর্তী সহ অন্যান্যরা। এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন বলেছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তারকেশ্বরের সভা থেকে এই আলো হাবের ঘোষণা করেছিলেন। দ্রুততার সঙ্গে কাজ শেষ করে, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ উদ্বোধন হয় আলো হাবের। পশ্চিমবঙ্গের এক নতুন দিগন্ত এই আলো হাব। চন্দননগর শহরের আলোর পাশাপাশি নাম জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্য বিখ্যাত। পর্যটন ক্ষেত্রে হোম স্টের ক্ষেত্রে ভারতবর্ষের ২৯ টি রাজ্যের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। উপস্থিত ছাত্র ছাত্রীদের লক্ষ্যে মন্ত্রী বলেন, শুধু ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে এমন নয়। সেলফ এমপ্লয়মেন্ট দরকার। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সম্পূর্ণ নিখরচায় এই প্রশিক্ষণ নিতে পারবে ছাত্র ছাত্রীরা। সরকারি আইটিআই এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সরকারি শংসাপত্রের মাধ্যমে তাদের দক্ষতার স্বীকৃতি দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই সারা রাজ্য থেকে ৬৬৫৪টি আবেদন জমা পড়েছে। যাদের আগামী ৬ মাসে ১৫২টি সরকারি আইটিআই–এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমি চাইব ছাত্র ছাত্রীরা অনেক ভালভাবে প্রশিক্ষন নেবে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রার্থীরা সরকারি শংসাপত্র এবং বিভিন্ন দপ্তরে কর্মসংস্থানের সহায়তা পাবেন। দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সূচনা করা হয়েছে। যা উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে। এই প্রশিক্ষণের সম্পূর্ণ খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে। যে সমস্ত বেসরকারি সংস্থা এই প্রশিক্ষণ দিতে এগিয়ে এসেছেন তাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন মন্ত্রী।