• বঙ্গে এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে কবে?
    আজকাল | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। ভোটার তালিকা সংশোধন ও যাচাই প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর।

    কমিশন সূত্রে খবর, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর তারা। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, মোট ১ কোটি ৫২ লক্ষ কেসের মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৩৯ লক্ষ ভোটারের শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

    পাশাপাশি, প্রায় ১ কোটি ৬ লক্ষ ভোটারের নথি ইতিমধ্যেই অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে এই অগ্রগতিকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন।

    শুনানি পর্বে জমা পড়া নথি গ্রহণযোগ্য কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য রাজ্যজুড়ে মোতায়েন করা হচ্ছে বিপুল সংখ্যক মাইক্রো অবজারভার। গ্রুপ ‘বি’ স্তরের ৮,৫০৫ জন আধিকারিককে যুক্ত করে মোট মাইক্রো অবজারভারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজারেরও বেশি।

    নতুনভাবে নিযুক্ত এই আধিকারিকদের শীঘ্রই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করা যায়। অন্যদিকে, মঙ্গলবার দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।

    ওই বৈঠকে বিধানসভা নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্ভুলতা বজায় রাখতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে অতিরিক্ত ১৪ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

    সেই আবেদন মঞ্জুর হওয়ায় ১৪ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকার অনুমোদন যাতে নির্বিঘ্নে পাওয়া যায়, সে দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

    সব মিলিয়ে, বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে প্রশাসনিক প্রস্তুতি যে এখন পুরোদমে চলছে, তা স্পষ্ট। উল্লেখ্য, এসআইআর মামলার শুনানি শেষে সোমবার শীর্ষ আদালত বেশ কিছু অন্তবর্তী নির্দেশ জারি করে। সেখানে বলা হয়,

    ১. পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে, আজ যে ৮,৫৫৫ জন গ্রুপ-বি অফিসারের তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে, তাঁরা সবাই আগামিকাল বিকেল ৫টার মধ্যে জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DRO)-এর কাছে রিপোর্ট করবেন।

    ২. নির্বাচন কমিশন (ECI)-এর কাছে এই অধিকার থাকবে যে, প্রয়োজনে বিদ্যমান ERO ও AERO-দের পরিবর্তে নতুন অফিসার নিয়োগ করা যাবে অথবা যোগ্য বিবেচিত হলে বর্তমান অফিসারদের পরিষেবা ব্যবহার করা যাবে।

    ৩. রাজ্য সরকারের এই অফিসারদের সংক্ষিপ্তভাবে বায়োডাটা যাচাই করার পর, প্রয়োজনে এক বা দুই দিনের সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে, যাতে তাঁরা মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে কাজ করতে পারেন।

    ৪. মাইক্রো অবজারভার বা রাজ্য সরকারের এই অফিসারদের দায়িত্ব হবে শুধুমাত্র ERO-দের সহায়তা করা। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ERO-র হাতেই থাকবে।

    ৫. যেহেতু নতুন করে সরকারি অফিসারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জমা দেওয়া নথি যাচাই করতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। সেই কারণে, কিছু আবেদনকারীর প্রস্তাব অনুযায়ী, আদালত নির্দেশ দিচ্ছে যে ১৪ ফেব্রুয়ারির সময়সীমার পর আরও এক সপ্তাহ সময় ERO-দের দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা নথি যাচাই সম্পন্ন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
  • Link to this news (আজকাল)