• কসবায় বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ধরা পড়ল বিহারের যুবক
    আজকাল | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ পাচারের নির্দিষ্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বড়সড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশ।

    দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি ও পরিকল্পিত অভিযানের পর কলকাতায় প্রবেশের মুহূর্তেই এক অস্ত্র পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে কলকাতা পুলিশের সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।

    ধৃতের কাছ থেকে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। লালবাজার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগ্নেয়াস্ত্র পাচার সংক্রান্ত নির্দিষ্ট তথ্য আগেই গোপন সূত্রে আসে।

    সেই তথ্যের ভিত্তিতে কলকাতার পাশাপাশি বিহার পুলিশের নিজস্ব নেটওয়ার্ককেও সক্রিয় করা হয়। তদন্তে নেমে বিহারের গয়া জেলার এক যুবককে চিহ্নিত করা হয়, যিনি অস্ত্র পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল। এরপর প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোয়েন্দা সূত্রের মাধ্যমে তাকে গোপনে নজরদারিতে রাখা হয়।

    পরবর্তীতে নিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ওই ব্যক্তি গয়া থেকে রাতের বাসে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তবে তিনি ঠিক কোন সময়ে এবং কোন যানবাহনে ওই সন্দেহভাজন কলকাতা পৌঁছবেন, তা স্পষ্ট না থাকায় কলকাতা পুলিশের এআরএস ও ডি.ডি.-এর একটি দল কসবা থানার অধীন রাসবিহারী কানেক্টর এলাকায় সাদা পোশাকে তল্লাশি অভিযান শুরু করে।

    অটো ও হলুদ ট্যাক্সিসহ ছোট যানবাহনে নজরদারি চালানো হয়। কলকাতা পুলিশের মধ্যেই সোমবার দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ গড়িয়াহাট থেকে বাইপাসগামী একটি অটো থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

    ধৃতের পরিচয় মহম্মদ ইস্তেয়াক (৩৮)। তিনি বিহারের গয়া জেলার গুরুয়া থানার বাইদা গ্রামের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে ধৃতের হেফাজত থেকে তিনটি সিঙ্গল শট আগ্নেয়াস্ত্র, দুটি ছয় চেম্বারযুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র, একটি ৭ এমএম পিস্তল এবং ১১ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

    মোট ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১১ রাউন্ড কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর ধৃতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে লালবাজার।

    প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলি কলকাতায় কোনও দুষ্কৃতী চক্রের হাতে পৌঁছনোর আগেই এই অভিযানের মাধ্যমে বড়সড় বিপদ রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

    ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অস্ত্র পাচারের পেছনে থাকা বড়সড় চক্র ও সম্ভাব্য গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের মতে, জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

    ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্তে নেমেছে। ধৃতকে মঙ্গলবার আদালতে তোলা হবে বলে জানানো হয়েছে।
  • Link to this news (আজকাল)