• লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আরও বেড়ে হল ১৭০০! স্বাস্থ্যসাথী ছাড়াই মিলবে ভাতা? জেনে নিন কোথায়, কী ভাবে আবেদন করবেন...
    ২৪ ঘন্টা | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের নারী কল্যাণে রাজ্য সরকারের অন্যতম যুগান্তকারী ও জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। রাজ্যের কোটি কোটি মহিলার আর্থিক ক্ষমতায়ন ও স্বনির্ভরতার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ২০২৬ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবং জনমানসের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি এই নতুন নির্দেশিকার ফলে আবেদনের প্রক্রিয়া যেমন সহজ হয়েছে, তেমনই ভাতার অঙ্কেও এসেছে অভাবনীয় বদল।

    রাজ্যের সাধারণ ঘরের মহিলাদের হাতখরচ এবং স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিস্কপ্রসূত প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এখন আরও শক্তিশালী রূপে আত্মপ্রকাশ করছে। নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে গ্রামীণ ও শহর—উভয় অঞ্চলের মহিলাদের কাছে এই প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকার একগুচ্ছ নতুন নিয়ম জারি করেছে। বিশেষত, স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের যে জট ছিল, তা কাটানো হয়েছে এই নতুন ঘোষণায়।

    স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি

    এতদিন পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদনের ক্ষেত্রে প্রধান শর্ত ছিল আবেদনকারীর নিজস্ব অথবা পরিবারের ‘স্বাস্থ্য সাথী’ কার্ড থাকা। এই একটি নথির অভাবে রাজ্যের কয়েক লক্ষ মহিলা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এই প্রকল্পের জন্য নাম নথিভুক্ত করতে পারছিলেন না। নতুন নিয়মে সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এখন থেকে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড আর বাধ্যতামূলক নয়।

    অর্থাৎ, কোনও মহিলার যদি স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নাও থাকে, তবুও তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাবেন। আবেদনকারীর কাছে কার্ড থাকলে তিনি তা জমা দিতে পারেন, কিন্তু কার্ড নেই বলে আবেদন বাতিল করার ক্ষমতা কারোর থাকবে না। মূলত গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের হয়রানি কমাতেই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ভাতার অঙ্কে ব্যাপক বৃদ্ধি: এক লাফে ১৫০০-১৭০০ টাকা

    নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ভাতার পরিমাণে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমান সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী:

    সাধারণ শ্রেণীর (General Category): মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিক ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ১৫০০ টাকা করা হয়েছে।

    তপশিলি জাতি (SC) ও উপজাতি (ST): মহিলাদের জন্য এই পরিমাণ বাড়িয়ে করা হয়েছে মাসিক ১৭০০ টাকা।

    প্রতি মাসে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই পরিমাণ টাকা পৌঁছে যাওয়ায় সাধারণ ঘরের মহিলারা তাঁদের ছোটখাটো প্রয়োজনের জন্য আর পরিবারের পুরুষ সদস্যদের ওপর নির্ভরশীল থাকবেন না।

    আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলী

    প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত হকদারদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দিতে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত বলবৎ রাখা হয়েছে: ১. স্থায়ী বাসিন্দা: আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। ২. বয়সসীমা: আবেদন করার সময় মহিলার বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে। উল্লেখ্য, ৬০ বছর পূর্ণ হলে ওই মহিলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজ্য সরকারের ‘বার্ধক্য ভাতা’র আওতায় চলে আসবেন। ৩. পেশাগত বিধি: সরকারি চাকরিজীবী বা যারা নিয়মিত সরকারি পেনশন পান, তাঁরা এই আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

    প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও সাবধানতা

    আবেদন প্রক্রিয়া ত্রুটিমুক্ত রাখতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথির ফটোকপি (স্ব-প্রত্যয়িত বা Self-attested) জমা দিতে হবে:

    আধার কার্ড: ফর্মের নাম ও বানান অবশ্যই আধার কার্ডের সঙ্গে হুবহু মিলতে হবে।

    ব্যাঙ্ক পাসবুক: ব্যাঙ্কের নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হতে হবে। মনে রাখতে হবে, আধার লিঙ্কিং থাকা সচল অ্যাকাউন্ট হওয়াই কাম্য।

    ছবি ও যোগাযোগ: সাম্প্রতিক তোলা রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং একটি সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে।

    জাতিগত শংসাপত্র: তফশিলি জাতি বা উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১৭০০ টাকা ভাতা পাওয়ার জন্য অবশ্যই তাঁদের ডিজিটাল কাস্ট সার্টিফিকেট জমা দেবেন।

    আবেদন প্রক্রিয়া: কোথায় যাবেন?

    রাজ্য সরকার এই আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজলভ্য করে তুলেছে। এখন থেকে বছরের যে কোনও সময় স্থানীয় ব্লক অফিস (BDO Office) বা মহকুমা শাসকের অফিসে গিয়ে ফর্ম জমা দেওয়া যাবে। এছাড়া প্রতি বছর রাজ্য জুড়ে আয়োজিত ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্প থেকেও সরাসরি ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে। অফলাইন ছাড়াও সরকারি পোর্টাল থেকে ফর্ম ডাউনলোডের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে বাংলার কোটি কোটি মহিলার মুখে হাসি ফুটবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা ২৫ বছর বয়স পার করার পরেও নথিপত্রের অভাবে আবেদন করতে পারেননি, তাঁদের কাছে এটি একটি বড় সুযোগ। ১৫০০ ও ১৭০০ টাকার এই সরাসরি আর্থিক সহায়তা গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন গতি আনবে এবং মহিলাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্মান বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

     

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)