• এপস্টিন ঝড়ে চিফ অফ স্টাফের পদত্যাগ, টালমাটাল ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি, পদত্যাগ করবেন স্টার্মার?
    এই সময় | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এপস্টিন কাণ্ডের জল গড়াল ব্রিটেনে। টালমাটাল প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের কুর্সি। তাঁর উপরে পদত্যাগের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। লেবার পার্টির অন্দরমহলের খবর এমনটাই। আমেরিকায় ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের ঘনিষ্ঠতা সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছিল ব্রিটেনের রাজনীতিতে। তাঁকে নিয়োগের দায় মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন চিফ অফ স্টাফ মর্গ্যান ম্যাকসুইনে। এ বার চাপ বাড়ছে স্টার্মারের উপরে।

    ব্রিটেনের রাজনীতিতে ম্যান্ডেলসনকে নিয়ে ক্ষোভ ছিলই। এপস্টিন ফাইলে তাঁর নাম সামনে আসতে সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। অভিযোগ, যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে শুধু বন্ধুত্ব নয়, ২০০৮ সালে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন ম্যান্ডেলসন। এখানেই শেষ নয়। অর্থের বিনিময়ে ব্রিটেনের গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এর পরেই গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেন স্টার্মার। তবে সোমবার সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিফ অফ স্টাফ মর্গ্যান ম্যাকসুইনের কাছ থেকে। সব দায় মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি।

    দিন যে ফুরোচ্ছে এই কথা বুঝতে পারছেন কিয়ের স্টার্মার নিজেও। তা স্বীকারও করে নিয়েছেন তিনি। চাপ সামলাতে ইতিমধ্যেই ডাউনিং স্ট্রিটের কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘জানি, লেবার পার্টির কর্মীরা আমার উপরে ক্ষুব্ধ এবং হতাশ।’ তবে রাজনীতির মধ্যে দিয়ে যে অনেক ভালো কাজ করা যায়, সেই বিষয়ে আশা প্রকাশও করেছেন।স্টার্মারের কথায়, ‘রাজনীতি যে ভালো কিছুর জন্য তৈরি হয়েছে, সেটা আমাদের প্রমাণ করতে হবে।’

    ম্যাকসুইনির সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের কথাও খোলাখুলি বলেছেন স্টার্মার। লেবার পার্টির নির্বাচনী সাফল্যে তাঁর ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা এগিয়ে যাব। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগোব। দেশ বদলানোর কাজ চালিয়ে যাব।’ তবে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে তিনি যে সরে দাঁড়াতে রাজি নন, সেটা স্পষ্ট। ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘দেশবাসী তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করেছেন। তিনি সেই কাজই করবেন।’

    স্টার্মারের ‘শাসন’ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আর সেই প্রশ্ন তুলছেন তাঁর নিজের দল লেবার পার্টির সদস্যরাই। তাঁরা প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে স্টার্মারের নেতৃত্বের উপরে আর তাঁদের আস্থা নেই। দলের এক সাংসদের কথায়, ‘খুব দুঃখজনক। মনে হচ্ছে একটা মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে চলেছে।’ পরিস্থিতির ফায়দা তুলতে মাঠে নেমে পড়েছে বিরোধীরাও। কনজারভেটিভ পার্টির নেত্রী কেমি ব্যাডেনক স্টার্মারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘নিজেকে সামলাতে না পারলে লেবার পার্টির অন্য কাউকে দায়িত্ব নিতে হবে। নয়তো নির্বাচন করানো উচিত।’

  • Link to this news (এই সময়)