• উন্নয়নের কোথায় ঘাটতি? ফরাক্কার পঞ্চায়েত এলাকায় দুয়ারে জেলাশাসক
    এই সময় | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এলাকার উন্নয়নের কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়নের কাজ খতিয়ে দেখতে সোমবার ফরাক্কা ব্লকের বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকা ঘুরে দেখলেন মুর্শিদাবাদ জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া।

    এ দিন জঙ্গিপুর মহকুমাশাসক সুধীকুমার রেড্ডিকে সঙ্গে নিয়ে জেলাশাসক কোথায় উন্নয়নের ঘাটতি রয়েছে ও কোথায় কোথায় কী রকম উন্নয়ন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে এলাকার কোথায় এবং কী ধরণের উন্নয়ন করা যেতে পারে, তাও জানার চেষ্টা করেন। জেলাশাসকের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান গ্রামবাসীরা।

    এর মাঝে এলাকা পরিদর্শনের সময়ে ফরাক্কা ব্লকের বেওয়া-২ পঞ্চায়েত এলাকার ২নম্বর নিশিন্দ্রা রেল কলোনির বাসিন্দা এক পরিবারের জন্মান্ধ ভাই ও বোনের গান শুনতে তাঁদের মাটির দাওয়ায় বসে যান। হারমোনিয়াম বাজিয়ে রামকৃষ্ণ দাশ দুটি গান গেয়ে শোনান মুর্শিদাবাদের জেলাশাসককে। মুর্শিদাবাদ জেলাপ্রশাসনের প্রধান কর্তার এমন সরল ও স্বাভাবিক আচরণ নজর কাড়ে গ্রামের সাধারণ মানুষের।

    রামকৃষ্ণ দাশ বলেন, ‘কী ভাবে আমাদের সংসার চলে জেলাশাসক আমাকে জিজ্ঞেস করেন। কোনও রকম সরকারি ভাতা পাই কিনা, সে সম্বন্ধেও খোঁজ নেন। জেলাশাসক খুব আন্তরিক। তাঁর কথাবার্তা আমার খুব ভাল লেগেছে। আমার গান শুনে তিনি খুব খুশি হয়েছেন।’ রামকৃষ্ণরা তিন বোন ও এক ভাই। তার মধ্যে রামকৃষ্ণ ও ছোট বোন জন্মান্ধ। বড় দিদির ও এক বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। রামকৃষ্ণ বলেন, ‘গানবাজনা করে কিছু আয় হয় আর ভাতা পাই। এ দিয়ে সংসার চলে যায়। আমাকে ও ছোট বোনকে দেখভাল করার জন্য এক বোন ও ভগ্নিপতি আমাদের বাড়িতে থাকে। তবে আমাদের মতো অসহায় মানুষের পাশে সরকার এসে দাঁড়ালে তার চেয়ে বড় পাওনা আর কী হতে পারে!’

    পড়শি পেশায় মুদি দোকানের মালিক আমোদিনী হালদার জানান, জেলাশাসক এসে জিজ্ঞেস করলেন কত বছরের দোকান। বাড়িতে কে কে আছে। কোনও রকম অসুবিধে হলে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা জানান তিনি। জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া বলেন, ‘বাংলার বাড়ি থেকে শুরু করে দুয়ারে সরকার, পথশ্রী, আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান প্রকল্প রূপায়নের কাজ খতিয়ে দেখতে এবং কোথাও উন্নয়নের ঘাটতি থাকলে সে কাজ করার ব্যাপারেও গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলি।’

  • Link to this news (এই সময়)