এই সময়, খড়্গপুর: অভিজ্ঞতা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। বরং কিছু ক্ষেত্রে মাথাব্যথারও কারণ। অথচ রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, যাঁদের জন্য এই প্রকল্প তাঁরা যেন এর দ্বারা উপকৃত হন। যদিও বেশ কিছু ক্ষেত্রে এমন উদাহরণ সামনে এসেছে, যেখানে এই প্রকল্পে বরাদ্দ টাকায় উপভোক্তা বাড়ি তৈরি না করে অন্য খাতে খরচ করেছেন। তাই বরাদ্দ টাকা যাতে সঠিক পথেই খরচ করা হয়, সে দিকে নজর রাখতে এবং প্রকল্প ১০০ শতাংশ সফল করতে একাধিক কৌশল নিচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। যার মধ্যে রয়েছে, এজেন্সির সাহায্য নেওয়া, প্রয়োজন বুঝে উপভোক্তার থেকে মুচলেকা লেখানো। পাশাপাশি সতর্ক করা হচ্ছে ব্যাঙ্কগুলিকেও।
সামনে বিধানসভা নির্বাচন। 'আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান' থেকে বুথে বুথে উন্নয়নের কাজ, পথশ্রী প্রকল্পে রাস্তা এবং বাংলার বাড়ি-এই তিনটিকেই ভোটের বড় ইস্যু বলে মনে করছে রাজ্যের শাসকদল। তাই অন্যান্য কাজের পাশাপাশি 'বাংলার বাড়ি' প্রকল্পে নির্বিঘ্নে নির্মাণ একটা বড় চ্যালেঞ্জ। গরিব মানুষের মাথায় ছাদের ব্যবস্থা করতে চলতি অর্থবর্ষের প্রথম দফাতেই ১ লক্ষ ১১ হাজার বাংলার বাড়ি পেয়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা। দ্বিতীয় দফায় পেয়েছে আরও ১ লক্ষ ৮০ হাজার বাংলার বাড়ি।
কিন্তু কেন হঠাৎ প্রশাসনের এই কৌশল? এক সময়ে দেখা গিয়েছিল, আবাস যোজনার টাকায় কেউ মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। কেউ মোটরবাইক কিনেছেন। এমনকী কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো ধার শোধ করা থেকে অন্য খাতে খরচের উদাহরণও রয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম ধাপে পাওয়া ১ লক্ষ ১১ হাজার বাংলার বাড়ির মধ্যে প্রায় ৯৬ হাজার বাড়ি তৈরি হলেও এখনও প্রায় ১৫ হাজার বাড়ি নির্মাণ করা যায়নি উপভোক্তারা অন্য খাতে সেই টাকা খরচ করে ফেলায়। বার বার নোটিস দেওয়া সত্ত্বেও এটা আটকানো সম্ভব হয়নি। তাই এ বার অন্য কৌশল নেওয়া হয়েছে। যার অন্যতম, গরিব লোধা সম্প্রদায়ের বাড়ি নির্মাণে এজেন্সির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি লোষা সম্প্রদায়ের উপভোক্তাদের মুচলেকাও নেওয়া হচ্ছে এই মর্মে যে, 'প্রথম কিস্তি বাবদ যে ৬০ হাজার টাকা পেয়েছি তাতে লিন্টন পর্যন্ত বাড়ির কাজ ২০ দিনের মধ্যে শেষ করব। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেলে বাড়ির কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করব। বাড়ি না করলে প্রশাসনিক ভাবে আমার বিরুদ্ধে যে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা মাথা পেতে নেব'। এভাবেই মুচলেকা দেওয়া ডিঞাপুরের কল্পনা আড়ি বলেন, 'আমি বাড়ি পেয়েছি। ওই টাকা অন্য খাতে খরচ করব না, বাড়ি করব বলে মুচলেকাও দিয়েছি।' মুড়াস্থি গ্রামের লক্ষ্মীকান্ত মাল, শম্পা মাল দে'ও বলেন, 'ওই টাকায় পাকা বাড়ি করব। অন্য খাতে টাকা খরচ করব না।'
ডেবরার বিডিও প্রিয়ব্রত রাঢ়ী বলেন, 'আমরা অভিজ্ঞতায় দেখেছি ৪৭জন উপভোক্তা এখনও বাড়ি করতে পারেননি। তাই এ বার সবার মাথায় ছাদ দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। তাঁদের কথা ভেবেই নানা কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে।' ব্যাঙ্কগুলিকেও সতর্ক করা হচ্ছে, যাতে উপভোক্তারা হুট করে সব টাকা তুলে নিতে না পারেন। যদি তুলেও নেন, তা হলে যেন সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে জানানো হয়। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা সভাধিপতি প্রতিভারানি মাইতি বলেন, 'এক বার বাড়ি তৈরির টাকা অন্য খাতে খরচ করে ফেললে আর বাড়ি করতে পারবে না গরিব মানুষ। বিষয়টি মানবিক দিক দিয়ে দেখে ব্যাঙ্কগুলিকেও সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছি।'