• ‘পুলিশ কর্তাদের ঘুষ দিলে তবেই...’, সুইসাইড নোট লিখে কন্ট্রোল রুমে আত্মঘাতী হেড কনস্টেবল, শোরগোল
    এই সময় | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • কন্ট্রোল রুমে ঢুকে আত্মহত্যা করলেন হোশিয়ার সিং আহির (৫০) নামে মধ্যপ্রদেশ পুলিশের এক হেড কনস্টেবল। তাঁর কাছ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। সেখানে পুলিশ বিভাগের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। রবিবার নিমুচ জেলার এই ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পুরো ঘটনার উপযুক্ত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মৃতের পরিবার। পাল্টা হোশিয়ারি সিংয়ের বিরুদ্ধে অত্যধিক মদ্যপানের অভিযোগ ছিল বলে দাবি করেছেন নিমুচের এসপি অঙ্কিত জয়সওয়াল।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হোশিয়ার সিংয়ের বাড়ি হরিয়ানায়। তিনি কানাওয়াটি পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন। শরীর খারাপ থাকায় পাঁচ দিনের ছুটি নিয়েছিলেন। সোমবার তাঁর কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রবিবার দুপুরে আচমকাই পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ঢুকে পড়েন হোশিয়ার। তাঁকে দেখে অবাক হয়ে যান সহকর্মীরা। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই হাতের একটি শিশি থেকে তরল পদার্থ মুখে ঢেলে দেন তিনি। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

    এমন ঘটনায় কন্ট্রোল রুমে হইচই পড়ে যায়। পুলিশ কর্মীরাই হোশিয়ারকে স্থানীয় জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শুরুর আগেই মৃত্যু হয় তাঁর। হোশিয়ারির জামার পকেট থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘গোটা ব্যবস্থাতেই মরচে ধরে গিয়েছে। যারা ঘুষ দেয়, তারাই সুবিধা পায়। সৎ কর্মীদের হয়রানি করা হয়।’

    সুইসাইড নোটে কয়েকজন পুলিশ কর্তার নামও নিয়েছেন তিনি। হোশিয়ারের কথায়, ‘এভাবে চলতে থাকলে আমাকে দয়া করে আত্মহত্যার অনুমতি দিন।’ পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যার আগে সুইসাইড নোটের একটি কপি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠিয়ে দিয়েছিলেন হোশিয়ার। তাতে নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

    স্বামীর আত্মহত্যার ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র কান্নায় ভেঙে পড়েন হোশিয়ারের স্ত্রী কমলেশ বাই। তিনি বলেন, ‘মানসিক যন্ত্রণায় ভিতরে ভিতরে ভেঙে পড়েছিলেন।’ ময়নাতদন্তের পরে তাঁকে স্বামীর মৃতদেহের সঙ্গে থাকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন কমলেশ। এমনকী হোশিয়ারের মোবাইল ফোনও গায়েব করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। একই সুরে মানসিক চাপের কথা বলেছেন মেয়ে অঞ্জলিও। তাঁর কথায়, ‘বাবার চারটি অস্ত্রোপচার হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও ভারী কাজ দিত।’

    সুইসাইড নোট খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নিমুচের এসপি অঙ্কিত জয়সওয়াল। তিনি বলেন, ‘হোশিয়ারের বিরুদ্ধে মদের ঘোরে সিনিয়র অফিসারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। সেই সবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্নীতি বা হয়রানির প্রমাণ মিললে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ একই সঙ্গে আত্মঘাতী হেড কনস্টেবলের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)