দিগন্ত মান্না, কোলাঘাট
আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ২১ জন শ্রমিক নিখোঁজ। ঘটনা মনে পড়লে ভয়ে কেঁপে ওঠে শরীর। সেই আতঙ্কে চোখের ঘুম উড়েছে কারখানায় রাত কাটানো শ্রমিকদের। জেলা জুড়ে রয়েছে দু'হাজারেরও বেশি হোসিয়ারি কারখানা। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শ্রমিকেরা সেখানে কাজ করেন। এঁদের অনেককেই দূরে বাসস্থানের কারণে কারখানায় থেকেই কাজ করতে হয়। সেখানেই থাকা-খাওয়া করতে হয়। অভিযোগ, এই সব হোসিয়ারি কারখানাগুলি কার্যত জতুগৃহ। নেই ন্যূনতম অগ্নিসুরক্ষা বিধি মানার বালাই।
আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের পর জেলার এই সব হোসিয়ারি কারখানার সুরক্ষা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের অন্যতম শিল্প হোসিয়ারি। জেলা জুড়ে দু'হাজারেরও বেশি কারখানা রয়েছে। শুধুমাত্র কোলাঘাটেই রয়েছে এক হাজারেরও বেশি হোসিয়ারি কারখানা। জেলার প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিকের রুটিরুজি এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত। শ্রমিকদের মধ্যে মহিলারাও রয়েছেন। হোসিয়ারি কারখানার মধ্যে মজুত থাকে কাপড়, তুলো, সুতো-সহ বিভিন্ন সামগ্রী। দূরের শ্রমিকেরা রাতে কাজ সেরে কারখানাতেই থেকে যান। সেখানেই চলে রান্নাবান্না, খাওয়াদাওয়া। অথচ কারখানাগুলির মধ্যে অগ্নি সুরক্ষা বিধি নেই বলে অভিযোগ শ্রমিকদেরই। বিশেষত কলকাতার আনন্দপুরের ঘটনার পরে আতঙ্কে রাত কাটছে তাঁদের।
গত কয়েক বছরের মধ্যে কোলাঘাটে দুটি হোসিয়ারি কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। কোনও প্রাণহানি না হলেও কারখানা দুটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের পরে হোসিয়ারি কারখানাগুলির সুরক্ষার প্রশ্ন আরও জোরদার হয়েছে। শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের ডিমারির হোসিয়ারি শ্রমিক তপন আদক বলেন, 'রাতে কাজ শেষ করে কারখানাতেই ঘুমোতে হয়। তাই আমরাও আতঙ্কে রয়েছি। কারখানার ভিতরে প্রচুর সামগ্রী মজুত থাকে। অগ্নি সুরক্ষা বিধি নেই বললেই চলে। এ ব্যাপারে মালিকদের পদক্ষেপ করা উচিত।' আর এক হোসিয়ারি শ্রমিক ভগবানপুরের ঝন্টু মাল-এর কথায়, 'হোসিয়ারি কারখানাগুলি কার্যত জতুগৃহ। যে কোনও সময় আগুন লেগে যেতে পারে। আনন্দপুর কাণ্ডের পরে খুব ভয়ে আছি।'
তবে ইতিমধ্যেই জেলার হোসিয়ারি কারখানাগুলিতে যথাযথ অগ্নি সুরক্ষা বিধি প্রণয়নের দাবিতে জেলাশাসককে স্মারকলিপি দিয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল হোসিয়ারি মজদুর ইউনিয়ন। সংগঠনের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কমিটির সভাপতি মধুসূদন বেরা বলেন, 'হোসিয়ারি কারখানাগুলিতে শ্রম দপ্তরের নজরদারি নেই। অগ্নি সুরক্ষা বিধির তোয়াক্কা না করেই অধিকাংশ কারখানা চলছে। আনন্দপুর কাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রশাসনের উচিত হোসিয়ারি কারখানাগুলির উপর বিশেষ নজরদারি চালানো।' পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, 'হোসিয়ারি কারখানাগুলিতে অগ্নি সুরক্ষার ব্যাপারে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।'