• ডিউটি অফিসারের আচরণ বুঝতে থানায় এ বার ‘বডি ক্যামেরা’
    এই সময় | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে পুলিশি অসহযোগিতার নালিশ করেন অনেকেই। এফআইআর বা জেনারেল ডায়েরি নিতে গড়িমসির উদাহরণও কম নেই। আবার, পুলিশের তরফেও পাল্টা দাবি করা হয়, ভুয়ো অথবা ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করতে নেতা কিংবা প্রভাবশালীদের দিয়ে ফোন করে চাপ তৈরি করা হয়। এই বিতর্কের অবসান চায় লালবাজার। সে কারণে এ বার ট্র্যাফিক পুলিশের মতো থানার ডিউটি অফিসারদের উর্দিতেও লাগাতে হবে ‘বডি ক্যামেরা’। কে সত্যি বলছেন, কে চাপ তৈরি করা চেষ্টা করছেন ---এতে অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে মনে করছেন পুলিশকর্তারা।

    কলকাতা পুলিশের সিপি–র দায়িত্ব নেওয়ার পরে নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা থেকে শুরু করে থানার পরিকাঠামো ও পুলিশের আচরণকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন সুপ্রতিম সরকার। পুলিশকর্মীদের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি থানায় ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ করছেন তিনি। এমনকী, ছদ্মবেশে পৌঁছে যাচ্ছেন পরিস্থিতি দেখতে। বোঝার চেষ্টা করছেন, নাগরিকদের সঙ্গে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা ঠিক কেমন ব্যবহার করছেন, তাও।

    সম্প্রতি মধ্যরাতে বালিগঞ্জ, সার্ভে পার্ক থানায় গিয়েছিলেন সিপি। ছদ্মবেশে মোবাইল চুরির জিডি করার অছিলায় দেখতে চেয়েছিলেন, রাতের থানায় সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়। অভিযোগ, নিজেদের থানা এলাকার মধ্যে ঘটনাটি ঘটেনি, এই অজুহাতে এফআইআর অথবা জিডি নিতে চান না পুলিশকর্মীদের একাংশ। কলকাতার সব থানাকে সিপি তাই স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন –– অভিযোগকারী যে এলাকারই বাসিন্দা হোন অথবা ঘটনাস্থল যেখানেই হোক না কেন, থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে কাউকে ফেরানো যাবে না। প্রাথমিক অভিযোগ দায়ের পরে পরবর্তী পদক্ষেপ করতে হবে।

    এ ক্ষেত্রে কী ভূমিকা বডি ক্যামেরার? রাস্তায় কেস দেওয়া নিয়ে চালকদের সঙ্গে প্রায়ই ঝামেলা হয় সার্জেন্ট–পুলিশকর্মীদের। বডি ক্যামেরা লাগানোর পরে ঘটনাস্থলে ঠিক কী ঘটছে, তার সহজেই ফয়সালা হয়ে যাচ্ছে। উর্দিতে ক্যামেরা দেখলে আগে থেকে সতর্কও হয়ে যাচ্ছেন অনেকে। কারণ, বডি ক্যামেরায় খুব স্পষ্টভাবে ভিডিয়ো এবং কথাবার্তা ধরা পড়ে। ওই ফর্মূলা থানাতেও প্রয়োগ করতে চায় লালবাজার। পুলিশ সূত্রে খবর, থানায় সিসিটিভি থাকলেও, ডিউটি অফিসারদের বুকে ওই ক্যামেরা লাগানো থাকবে। ডিউটিতে যোগ দেওয়া থেকে শেষ হওয়া পর্যন্ত, বডি ক্যামেরা চালু রাখতে হবে। এতে পুলিশের গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তেমনই ইচ্ছাকৃত ভুয়ো অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেও আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে বলে লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)