জন্ম থেকে মৃত্যু, ভারতীয়দের জীবন আটকে কেন্দ্রীয় সরকারের বেঁধে দেওয়া ট্যাক্সের ধাঁধায়। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ প্রসঙ্গে লোকসভায় বক্তব্য রাখতে উঠে এই মন্তব্য করলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কর নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ দাগার পাশাপাশি তাঁর কণ্ঠে শোনা গেল দ্বৈত ভারত প্রসঙ্গও। এক দিকে এই দেশে বিশ্বগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম হয়েছে। অন্য দিকে, সেখানেই বাংলায় কথা বলার জন্য বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে, নিজের বক্তব্যে অভিযোগ তুলেছেন অভিষেক। ২০২১ সালে জন এফ কেনেডি সেন্টারে বীর দাসের দুই ভারত থেকে আসার মন্তব্য আদতে সত্যকে দেখানোর একটি আয়না ছিল, বার্তা তাঁর।
এ দিন নিজের বক্তব্যে একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছেন অভিষেক। সুচারু ভাবে তুলেছেন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বকেয়া না মেটানোর অভিযোগ, বাজেটে বাংলাকে বঞ্চিত করার অভিযোগ, দেশবাসীকে ‘ট্যাক্স ট্র্যাপ’-এ ফেলার অভিযোগও। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকেও তাঁর বার্তা, উপযুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে তিনি অভিযোগগুলির পাল্টা জবাব দিতে পারেন নিজের বক্তব্য। প্রয়োজনে উল্লেখ করতে পারেন তাঁর নাম। অভিজ্ঞ মহলের দাবি, এই বার্তা দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন নির্মলা সীতারামনের দিকে।
অভিষেকের অভিযোগ, এই দেশে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একটি ব্যক্তিকে ট্যাক্সের ফাঁদে জর্জরিত করে রাখা হয়। নিজের দাবির পক্ষে তাঁর বক্তব্য, ‘শিশুর জন্মের পরে তার ডায়াপারের ট্যাক্স, পড়াশোনা শুরু হওয়ার পরে শিক্ষা, বই, নোটবুক, পেন, পেন্সিল-সবকিছুতে ট্যাক্স, তিনি উপার্জন শুরু করলে এর উপরে ট্যাক্স, টাকা বাঁচালে এর উপরে ট্যাক্স, খরচ করলে তার উপরেও বসানো হয় ট্যাক্স, কাজে গেলে পেট্রল-ডিজেলে ট্যাক্স, অসুস্থ হলে ডাক্তার, ওষুধের উপরে ট্যাক্স, বৃদ্ধ হলে পেনশন, চিকিৎসায় ট্যাক্স, তাঁর মৃত্যুর পরে শোকসভায় ধূপ জ্বালানোর জন্যও পরিবারকে ট্যাক্স দিতে হয়।’