• অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি ঘটনা! কবর খোঁড়ার পরই বেঁচে উঠল চিকিৎসকের ‘টু হান্ড্রেড পার্সেন্ট ডেথ’ ডিক্লেয়ার করা ১৪-র 'মৃত' কিশোরী...
    ২৪ ঘন্টা | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • কিরণ মান্না: মৃত বলে ঘোষণা করে দিয়েছিলেন চিকিৎসক। সৎকারের জন্য খুঁড়ে ফেলা হয়েছিল কবরও! কিন্তু শেষমেশ বেঁচে উঠল ১৪ বছরের সেই 'মৃত' কিশোরী। তাজ্জব করা এই ঘটনায় হতবাক সবাই। এলাকায় ছড়িয়েছে উত্তেজনাও।

    কী ঘটেছে ঘটনাটি? 

    চোখে মৃত, যন্ত্রে জীবিত! শেষ মুহূর্তে টেকনিশিয়ানের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচল ১৪ বছরের নাবালিকা।প্রাইভেট চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করে দিয়েছিল ১৪ বছরের নাবালিকাকে। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মাইকে ঘোষণা করে সৎকারের প্রস্তুতিও সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। খুঁড়ে ফেলা হয় কবরও। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সরকারি হাসপাতালের এক অ্যাম্বুলেন্স টেকনিশিয়ানের দৃঢ়তায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসে ওই কিশোরী। প্রাণে বেঁচে যায় সে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাকে ঘিরে তোলপাড় পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি মহকুমা হাসপাতাল ও গোটা এলাকা।

    গ্রামবাসী সেখ ইজবার জানিয়েছেন, কাঁথি থানা এলাকার দুলালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এড়াফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা খাদিম সাহার ১৪ বছরের নাবালিকা বোন পড়াশোনার জন্য মায়ের সঙ্গে ঝগড়ার পর বিষ পান করে। প্রথমে তাকে মাজনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। দু’দিন চিকিৎসার পর আইসিইউ বেড ফাঁকা না থাকায় চিকিৎসকেরা তাকে তমলুক মেডিক্যাল কলেজে রেফার করেন।

    কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কলকাতায় রেফার করা হয়। কিন্তু রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরিবারের লোকজন তমলুকের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যান কিশোরীকে। সেখানেই অ্যাম্বুলেন্সে থাকা অবস্থায় এক চিকিৎসক ওই কিশোরীর চোখ পরীক্ষা করে রোগীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এদিকে সেই অ্যাম্বুলেন্সেই উপস্থিত ছিলেন কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স টেকনিশিয়ান রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল। তিনি চিকিৎসককে জানান, পালস অক্সিমিটার ও অন্যান্য যন্ত্রে এখনও মৃদু প্রাণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যদিও চিকিৎসক তার কথায় গুরুত্ব না দিয়ে দাবি করেন, যন্ত্রটি নষ্ট।

    হতাশ পরিবার এরপর কাঁথিতে ফিরে এসে এক প্রাইভেট চেম্বারের চিকিৎসকের কাছে যান। সেখানেও ‘টু হান্ড্রেড পার্সেন্ট ডেথ’ বলে ঘোষণা করা হয়। ভেঙে পড়ে পরিবার। বাড়িতে খবর দেয়। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মাইকে ঘোষণা করা হয় মৃত্যুসংবাদ। ধর্মীয় নিয়ম মেনে কবর খোঁড়ার কাজও শেষ হয়ে যায়। কিন্তু হাল ছাড়েননি অ্যাম্বুলেন্স টেকনিশিয়ান রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল। তাঁর দাবি, আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের যন্ত্র কখনও ভুল বলে না। তিনি মনে মনে ভাবতে থাকেন, এভাবে একজন জীবিত মানুষকে কবর দেওয়া হবে! এরপর তিনি গ্রামবাসী ও পরিবারের লোকজনকে বারবার অনুরোধ করে শেষবারের মতো কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাজি করান। প্রথমে পরিবার রাজি না হলেও তিনি আশ্বাস দেন, সেক্ষেত্রে পোস্টমর্টেম করাতে হবে না—তিনি নিজে হাসপাতাল সুপারের সঙ্গে কথা বলবেন।

    শেষ পর্যন্ত কবরস্থান থেকে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় কিশোরীকে। আইসিইউতে ভর্তি করা হয় তাঁকে। চিকিৎসা শুরু হতেই ধীরে ধীরে সাড়া দিতে শুরু করে সে। চিকিৎসকদের তৎপরতায় কয়েক দিনের মধ্যেই অবস্থার উন্নতি হয়। ৭ দিন পর আজ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পায় ওই কিশোরী। এরপর হাসপাতাল চত্বরেই তৈরি হয় আবেগঘন দৃশ্য। প্রাণ ফিরে পাওয়া কিশোরী নিজেই ফুলের মালা পরিয়ে দেয় টেকনিশিয়ান রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল, হাসপাতাল সুপার, চিকিৎসক ও নার্সদের। পুষ্পস্তবক দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানায় পরিবার ও গ্রামবাসীরা।

    অন্যদিকে ঘটনার পর চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসী ও পরিবারের লোকজন। উত্তেজনা ছড়ালে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের সুপার অরূপ রতন করন জানান, লিখিত অভিযোগ দিলে স্বাস্থ্য দফতরের মাধ্যমে পূর্ণ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে ব্যাপক হইচই পড়ে গিয়েছে।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)