অয়ন ঘোষাল: শহরের বিখ্যাত অঙ্কোলজিস্টের হুবহু ডুপ্লিকেট সেজে কে ঘুরছে? কেন এই ডাক্তারের নাম করে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাচ্ছে? নিছক জালিয়াতি নাকি তাঁর খ্যাতি ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত? মহা সমস্যায় ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ইন্দ্রনীল চ্যাটার্জি।
২৪ নভেম্বর ২০২৫। রাত সাড়ে ৯টায় শহরের খ্যাতনামা ক্যান্সার চিকিৎসক এবং ঠাকুরপুকুর সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার হাসপাতালের ডাক্তার ইন্দ্রনীল চ্যাটার্জির কাছে একটি ফোন আসে। বলা হয় শিয়ালদহ অঞ্চলের একটি ল্যাব কালেকশন সেন্টার থেকে বলছি। আপনি আমাদের কাছ থেকে যে টাকা নিয়ে গিয়েছেন, সেটা কবে ফেরত দেবেন? আকাশ থেকে পড়েন ইন্দ্রনীল চ্যাটার্জি। কারণ সেদিন তিনি শিয়ালদহ এলাকায় যাননি। সারাদিন ক্যান্সার সেন্টারের অপারেশন থিয়েটারে ছিলেন।
তাঁর মতো দেখতে আরেকজন কেউ ঘুরছে কলকাতা শহরে? তাঁর অচেনা অথচ তাঁর খ্যাতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল বিভিন্ন মানুষের কাছে গিয়ে বিভিন্নভাবে টাকা চাইছে? সন্দেহের বশে নরেন্দ্রপুর থানা, যেখানে তাঁর একটি প্রাইভেট চেম্বার আছে, সেখানে ডাক্তার ইন্দ্রনীল চ্যাটার্জি একটি লিখিত অভিযোগ করেন ২৫ নভেম্বর ২০২৫ সালে। তবে এটাই শেষ নয়। মাঝে মাঝেই এরকম ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। ভয়ে নিজের ফেসবুক পেজ বন্ধ করেছেন এই চিকিৎসক। নিজের ফোনের সেটিংও চেঞ্জ করেছেন।
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। দক্ষিণ কলকাতার রিচি রোড। আবার এক ঘটনা। চন্দ্র মুখার্জি নামে এক হোমিওপ্যাথ ডাক্তার হঠাৎ ফোন করলেন ইন্দ্রনীল চ্যাটার্জিকে। তাঁর কাছ থেকেও আবার টাকা চাওয়া হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি শহরের আরেক চিকিৎসক দেবজ্যোতি দাস যিনি কেষ্টপুরের বাসিন্দা, তাঁর চেম্বারেও পৌঁছে যায় ইন্দ্রনীলের ডুপ্লিকেট। তার কাছ থেকে একই কায়দায় টাকা নেওয়া হয়। পুরো ঘটনায় রীতিমত ভীত, সন্ত্রস্ত, আতঙ্কিত ডাক্তার ইন্দ্রনীল চ্যাটার্জি। ভয় বদনামের। ভয় কষ্ট করে অর্জিত সুনাম নষ্টের। টাকা নেওয়ার জেরে পুলিসি ঝামেলারও ভয়! কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না স্বনামধন্য চিকিৎসক। পড়েছেন আতান্তরে।